Medical College Clash

জুনিয়র চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, শিশু মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র মেডিকেল কলেজ চত্বর, মারমুখী হয়ে উঠল পরিজনেরা

শিশুটির যখন হাসপাতালে ভর্তি হয় তখন তাঁর বাবা নরেশ যাদব আন্দুলের বাড়িতে ছিলেন। তাঁর নির্দেশেই শিশুটিকে মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসা হয়। নরেশ বলেন, “একজনও সিনিয়র চিকিৎসক ছিল না। সব জুনিয়র চিকিৎসকেরাই আমার ছেলের চিকিৎসা করেছে। ওরা আমার ছেলেকে খুন করেছে।”

শিশু মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র কলকাতা মেডিকেল কলেজ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:২৫

ভুল চিকিৎসার জেরে শিশু মৃত্যু অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার দুপুরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মেডিকেল কলেজ চত্বর। রবিবার সকাল ১১ বছরের আন্দুলের বাসিন্দা পবন যাদবকে মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসা হয়। পেটে ব‍্যথার নিয়ে সকাল ১০টা নাগাদ তাঁকে হাসপাতালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবে ভর্তি করানো হয়। অভিযোগ, ভর্তি করানোর দেড় ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। ভুল চিকিৎসার জন‍্যই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবার অভিযোগ করছে। 

শিশুটি পুজোর ছুটিতে কলেজ স্ট্রিটে মামার বাড়িতে এসেছিল। সেখানেই পেটে ব্যথা অনুভব করায় মেডিকেল কলেজই পবনকে নিয়ে আসা হয়। পরিবারের বক্তব্য, হাসপাতালে ভর্তি করানোর সময় পবন পায়ে হেঁটেই ভিতরে প্রবেশ করেছিল। তার সাড়ে ১১টা নাগাদ তাঁদের বলা হয়, শিশুটি মারা গিয়েছে। সামান‍্য পেটে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়ার পরে কীভাবে মৃত্যু হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে পরিবার।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার দুপুরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে মেডিকেল কলেজ চত্বর। মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবের সামনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে বচসা বাধে। খবর পেয়ে মেডিকেল কলেজের পুলিশ আউটপোস্ট থেকে আধিকারিকেরা আসেন। পরিজনদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এরই এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়েছে যায়। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে থেকে হাতে হেলমেট দিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর চড়াও হয়। তা সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের ওপরেও তাঁরা চড়াও হয়। প্রিজন ভ্যানে কয়েক জনকে আটক করে থানায় নিয়ে য়াওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 

তবে পরিবারের অভিযোগ, একেবারেই ভুল চিকিৎসার কারণে শিশুটি মারা গিয়েছে। রবিবার থাকায় হাসপাতালে কোনও সিনিয়র চিকিৎসক ছিলেন না। তাই জুনিয়র চিকিৎসকেরাই তাঁর চিকিৎসা করেছে। জুনিয়র চিকিৎসকেরা মিথ‍্যা কথা বলছে বলে অভিযোগ করছে পরিবার। পরিবারের এক সদস্যের কথায়, “আমার চোখের সামনে তিনটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওরা বলছে দু’টো ইঞ্জেকশন দিয়েছে।”

তবে ভুল ইঞ্জেকশন দেওয়ার কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনাটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। হাসপাতালের অধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস জানান, পেটে ব্যথা নিয়ে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন‍্য এসেছিল। পেটে ব‍্যখা কমাতে ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল। আচমকা শিশুটির হার্ট অ্যাটাক হয়। সিপিআর দেওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। ভুল ইঞ্জেকশনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি। 

বস্তুত, রবিবারে হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক না থাকার বিষয়টি নিয়ে শনিবার স্বাস্থ্য ভবনে একটি বৈঠক হয়েছে। রাজ‍্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বৈঠক করেছেন। তাঁর নির্দেশ, রবিবার বা ছুটির দিনেও হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে সিনিয়র চিকিৎসক রাখতে হবে। তার পরের দিনই সিনিয়র চিকিৎসক না থাকার অভিযোগ সামনে আসা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক প্রবীণ চিকিৎসকের মহলের বক্তব্য, মন্ত্রীর কথা নিচুতলা পর্যন্ত পৌঁছোচ্ছে না— এমনটা হতে পারে। সরকারের নির্দেশ পালন করা সিনিয়র চিকিৎসকদের কাজ। এমনটা অনভিপ্রেত।

পরিবারের এ-ও দাবি, কী কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে তা স্বাস্থ্য ভবনকে তদন্ত করে হবে। কেন সিনিয়র চিকিৎসক সেখানে ছিল না তার জবাব দিতে হবে। শিশুটির যখন হাসপাতালে ভর্তি হয় তখন তাঁর বাবা নরেশ যাদব আন্দুলের বাড়িতে ছিলেন। তাঁর নির্দেশেই শিশুটিকে মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসা হয়। নরেশ বলেন, “একজনও সিনিয়র চিকিৎসক ছিল না। সব জুনিয়র চিকিৎসকেরাই আমার ছেলের চিকিৎসা করেছে। ওরা আমার ছেলেকে খুন করেছে।” 

তবে কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তা জানতে ময়নাতদন্তের প্রয়োজন। ছেলের দেহের কাটাছেঁড়া করতে দিতে নারাজ পরিবার। ভুল চিকিৎসা নাকি কর্তব‍্যে গাফিলতি তার তদন্ত কোন দিকে এগোচ্ছে তার দিকে নজর থাকবে। 


Share