Murder Case

সমকামী সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই খুন? ফরাক্কায় পরিযায়ী শ্রমিকের গলার নলি কেটে হত্যা, গ্রেফতার পরিচিত যুবক

পুলিশের দাবি, সমকামী সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাওয়ায় দু’জনের মধ্যে বিবাদ তৈরি হয়, আর তার জেরেই খুনের ঘটনা। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, ফারাক্কা
  • শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:০২

সমকামী সম্পর্কই ডেকে আনল বিপদ। এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে চাইছিলেন এক যুবক। সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই পরিচিত এক যুবকের বিরুদ্ধে তাঁকে খুনের অভিযোগ উঠল। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় পরিযায়ী শ্রমিক খুনের ঘটনায় ঘটেছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম নাসিরুদ্দিন শেখ ওরফে মিস্টার (৩২)। শনিবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার ধৃতকে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে তদন্তকারীরা সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়েছেন।

মৃত যুবকের নাম মোবারক শেখ (২২)। শুক্রবার সকালে ঝাড়খণ্ড লাগোয়া ইমামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের আমতলা এলাকায় একটি ধানজমি থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। যুবকের দু’হাত বাঁধা ছিল। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলার নলি কেটে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। দেহের পাশ থেকে একটি মদের বোতলও উদ্ধার হয়। পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক মোবারক কয়েক দিন আগেই ছুটিতে বাড়ি ফিরেছিলেন। তাঁকে কে বা কারা খুন করল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

তদন্তে নেমে মৃতের মোবাইলের কলের তালিকা এবং খোশালপুরের একটি মদের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই নাসিরুদ্দিনের খোঁজ মেলে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রায় এক বছর আগে ওড়িশায় কাজ করতে গিয়ে মোবারকের সঙ্গে নাসিরুদ্দিনের পরিচয় হয়। প্রথমে বন্ধুত্ব হলেও পরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দু’জনের মধ্যে সমকামী সম্পর্ক ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কিন্তু কিছুদিন ধরে সেই সম্পর্ক থেকে মোবারক বেরিয়ে আসতে চাইছিলেন। এই বিষয়টি নিয়েই দু’জনের মধ্যে বিবাদ শুরু হয় বলে পুলিশের দাবি।

তদন্তকারীদের অনুমান, মোবারক কয়েক দিন আগে গ্রামে ফিরেছেন জানতে পেরে বৃহস্পতিবার তাঁর সঙ্গে ফের যোগাযোগ করেন নাসিরুদ্দিন। অভিযোগ, আগে থেকেই সে খুনের পরিকল্পনা করেছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে খোশালপুর থেকে মদ কেনে। তারপর দু’জনে ঝাড়খণ্ড লাগোয়া আমতলার একটি নির্জন ধানজমিতে যায়। সেখানে একসঙ্গে মদ্যপানের পর মোবারকের জামা খুলে তাঁর দু’হাত বেঁধে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তাঁকে খুন করে অভিযুক্ত পালিয়ে যায় বলে পুলিশের দাবি।

শুক্রবার সকালে দেহ উদ্ধার করা হয়। ফারাক্কা থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। শনিবার রাতে নাসিরুদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, জেরায় ধৃত খুনের কথা স্বীকার করেছে। যদিও ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

রবিবার দুপুরে ফরাক্কা থানায় সাংবাদিক বৈঠক করে গ্রেফতারির কথা জানান জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কান্তি বিশ্বাস। ধৃতকে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ বা আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।


Share