Madhyamik Exam

কড়া নজরদারির মাঝেই ‘উত্তরপাঠ’ মালদহের শিক্ষকের! পরীক্ষাকেন্দ্রের ঘটনা সামনে আসতেই সাসপেন্ড করল পর্ষদ

অভিযোগ, নির্দিষ্ট একটি কক্ষে গার্ড দেওয়ার দায়িত্ব থাকলেও ওই শিক্ষক নিজের ঘর ছেড়ে পাশের কক্ষে যান। সেখানে টেবিলে থাকা একটি সাদা লুজ শিট নিয়ে প্রশ্নপত্রের উত্তর লেখা শুরু করেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৮

মাধ্যমিক পরীক্ষায় নকল রুখতে যখন পর্ষদ কড়া নজরদারির কথা বলছে, ঠিক সেই সময় মালদহের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে সামনে এল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। পরীক্ষার হলের ভেতরেই উত্তর লিখে তা উচ্চস্বরে পরীক্ষার্থীদের বলে দেওয়ার অভিযোগে মালদার মথুরাপুর বিএসএস স্কুলের শিক্ষক সনওয়ার আলি পরভেজ-সহ মোট ন'জন শিক্ষককে সাসপেন্ড করেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।

অভিযোগ, নির্দিষ্ট একটি কক্ষে গার্ড দেওয়ার দায়িত্ব থাকলেও ওই শিক্ষক নিজের ঘর ছেড়ে পাশের কক্ষে যান। সেখানে টেবিলে থাকা একটি সাদা লুজ শিট নিয়ে প্রশ্নপত্রের উত্তর লেখা শুরু করেন। সেদিন তাঁর নিজের বিষয়ের পরীক্ষা থাকায় দ্রুত সব উত্তর লিখে ফেলেন বলেই দাবি। এরপর সেই লেখা হাতে নিয়ে শ্রেণিকক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে জোরে জোরে উত্তর পড়তে থাকেন, যাতে পরীক্ষার্থীরা সহজেই তা খাতায় লিখতে পারে।

এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো বাইরে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা পর্ষদের নজরে আসে। তদন্তের পরই অভিযুক্ত শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়। পর্ষদের বক্তব্য, পরীক্ষায় অনিয়মের জন্য যেখানে পড়ুয়াদের পরীক্ষা বাতিল হতে পারে, সেখানে শিক্ষকদের ক্ষেত্রে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই ধরনের অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও আট জন শিক্ষককেও সাসপেন্ড করা হয়েছে।

ঘটনা সামনে আসতেই শিক্ষামহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সিসিটিভি ও কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বা কারও উদ্যোগে ভিডিও প্রকাশ্যে না এলে বিষয়টি চাপা পড়ে যেতে পারত। পর্ষদ সূত্রে জানানো হয়েছে, এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে, এবং এই পদক্ষেপ তারই প্রতিফলন।


Share