BJP Inner Clash

সুকান্তকে ‘চোরে চোরে মাসতুতো ভাই’ কটাক্ষ, গঙ্গারামপুরের বিজেপি বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায়কে শোকজ রাজ্য নেতৃত্বের

রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে বিধায়ককে শোকজের সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গঙ্গারামপুরের বিজেপি বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর
  • শেষ আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬ ১১:৪২

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে গঙ্গারামপুরের বিজেপি বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায়ের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্য বিজেপির শৃঙ্খলা কমিটি তাঁকে শোকজ করল। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে বিধায়ককে শোকজের সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি সরকারি কলেজগুলির পরিচালন সমিতির সভাপতি পদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। সাধারণত সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়ক বা সাংসদদের এই দায়িত্ব দেওয়া হলেও, গঙ্গারামপুরের বিজেপি বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায়কে কোনও কলেজেরই সভাপতি করা হয়নি। বরং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে বালুরঘাট ও গঙ্গারামপুর দুই কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতির দায়িত্বই দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরে বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বলে সূত্রের খবর।

এর মধ্যেই তৃণমূল নেতা বিপ্লব মিত্র সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত মজুমদারের যোগ্যতার প্রশংসা করেন। এমনকী, কলকাতার বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শীর্ষ পদেও সুকান্ত থাকতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। এর পরেই সত্যেন্দ্রনাথ রায় সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। সেখানে কারও নাম উল্লেখ না করেই সুকান্ত মজুমদার এবং বিপ্লব মিত্রকে ‘চোরে চোরে মাসতুতো ভাই’ বলে তিনি আক্রমণ করেন। পাশাপাশি, তৃণমূলের সঙ্গে গোপন বোঝাপড়া করে বিজেপি ভাঙার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তোলেন গঙ্গারামপুরের বিধায়ক।

সমাজমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে সত্যেন রায় লেখেন, কালীঘাট থেকে আসা একসময়ের 'চোর তৃণমূল' নেতা এখন ভাল তৃণমূল সেজে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করছেন। তাঁর দাবি, "যেমন মাসির ছেলের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলে না, তেমনি এরা পরস্পর মাসতুতো ভাই।"

ওই পোস্টে সত্যেন্দ্রনাথ রায় আরও অভিযোগ করেন, বিজেপির কয়েক জন নেতার সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের গোপন সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁদের মাধ্যমে দল ভাঙার চক্রান্ত চলছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের মতো বিষয়েও তৃণমূল নেতাদের পরামর্শ নেওয়া উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। দক্ষিণ দিনাজপুরের জনসংখ্যার প্রসঙ্গ তুলে সত্যেন্দ্রনাথ লেখেন, জেলার গ্রাম-গঞ্জের ৯৬ শতাংশ মানুষকে উপেক্ষা করে এ ধরনের গোপন বোঝাপড়া ও রাজনীতি চলতে পারে না। পুরো বিষয়টি গঙ্গারামপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের সাধারণ মানুষের বিচারবোধের উপর ছেড়ে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

দলের শৃঙ্খলা ভেঙে প্রকাশ্যে দলেরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধে এভাবে আক্রমণ শানানোর অভিযোগেই রাজ্য নেতৃত্বের এই কড়া পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন আগামী সাত দিনের মধ্যে শোকজের জবাবে সত্যেন্দ্রনাথ কী জানান, সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


Share