Illegal Bating

উত্তরপাড়ায় সাট্টার ঠেক ভাঙতে পুলিশের অভিযান, উর্দি পড়া আধিকারিক দেখতেই ছাদ থেকে ছোঁড়া হল সোনা, সামনে ছেড়ে দেওয়া হল বাড়ির পোষা কুকুর

স্থানীয় সূত্রের খবর, বাপি ওই এলাকায় সাট্টার প‍্যাড চালাত। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাট্টার কারাবার নিয়ন্ত্রণ করত বাপি। এমনকী, সে কুখ্যাত দুষ্কৃতী তথা জমি মাফিয়া রমেশ মাহতের ঘনিষ্ঠ বলেও জানা গিয়েছে।

সাট্টার ঠেকে মালিকের বাড়ি থেকে সোনা ও টাকা উদ্ধার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তরপাড়া
  • শেষ আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৭:১৯

পালাবদলের পরেও রমরমিয়ে চলছিল সাট্টার ঠেক। হুগলির উত্তরপাড়ায় সাট্টার ঠেকে ভাঙতে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশ দেখেই বাড়ির ছাদ থেকে সোনা ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের দেখে বাড়ির সারমেয় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও পুলিশ দাবি করেছে। যদিও যাবতীয় বাধা উপেক্ষা করে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। বিপুল সামগ্রী এবং নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

উত্তরপাড়ার তিন নম্বর কাঁসারি পুকুর রোডের ২ নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনিতে পুলিশ অভিযান চালায়। সেখানকার বাসিন্দা সঞ্জয় মজুমদার ওরফে বাপি নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালানোর জন‍্য পৌঁছোয়। স্থানীয় সূত্রের খবর, বাপি ওই এলাকায় সাট্টার প‍্যাড চালাত। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাট্টার কারাবার নিয়ন্ত্রণ করত বাপি। এমনকী, সে কুখ্যাত দুষ্কৃতী তথা জমি মাফিয়া রমেশ মাহতের ঘনিষ্ঠ বলেও জানা গিয়েছে।

গতকাল রাতে চন্দননগর পুলিশের গোয়েন্দারা উত্তরপাড়ার ওই এলাকায় যায়। তাঁদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও ছিল। অভিযোগ, পুলিশবাড়িতে গেলে তল্লাশি করতে এসে দেখেই বাড়ির ছাদ থেকে সোনা ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ভিতরে যেতে চেয়ে ডাকাডাকি করে। বেশ কিছু ক্ষণ ডাকাডাকির পরে দরজা খুললেও বাড়ির পোষা কুকুর ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও বাধা উপেক্ষা করে পুলিশ বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে।

দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পরে মধ‍্যরাত ১২টার পরে দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে দেড় কেজি সোনার অলঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

তবে মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় মজুমদার ওরফে বাপিকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তাঁর দুই আত্মীয়কে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের মধ্যে বাপির ছেলে রয়েছে। আরেক জন দুষ্কৃতী হুব্বা শ‍্যামলের ভাই বাচ্চু রয়েছে। সাট্টার ঠেক চালানোয় সরাসরি মদত রয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। রমেশ মাহাতোর জমি ভরাট সিন্ডিকেটের সঙ্গে ধৃতদের যোগাযোগ রয়েছে বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে।

চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এক কর্তা জানান, বেআইনি সাট্টা চালানোর অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযুক্তের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমান নগদ টাকা এবং সোনা উদ্ধার হয়েছে। দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।” ধৃতদের বৃহস্পতিবার শ্রীরামপুর আদালতে হাজির করানো হয়েছে।


Share