Calcutta High Court

৮০৩ কোটি টাকার তৃণমূল অ্যাকাউন্ট বন্ধই থাকবে! কলকাতা হাই কোর্টে বড় ধাক্কা কালীঘাট শিবিরের, পরবর্তী শুনানি পুজোর পর

বিচারপতি জানান, কারা ‘আসল তৃণমূল’, সেই বিষয়ে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে কোনও নির্দেশ দেওয়া হবে না। পুজোর ছুটির পর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৫:৩১

অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাই কোর্টে ধাক্কা খেল মমতাপন্থী তৃণমূল। চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধের ঘটনায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সেগুলি পুনরায় খোলার অনুমতি দিলেন না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বন্ধ অ্যাকাউন্টগুলিতে থাকা অর্থ থেকে দৈনন্দিন কাজের খরচ মেটানোর জন্য অন্য বেসরকারি ব্যাঙ্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিষয়টি পরিচালনার জন্য স্পেশাল অফিসারও নিয়োগ করা হয়েছে। বিচারপতি জানান, কারা ‘আসল তৃণমূল’, সেই বিষয়ে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে কোনও নির্দেশ দেওয়া হবে না। পুজোর ছুটির পর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।

হরিশ মুখার্জি রোডের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে তৃণমূলের চারটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০৩ কোটি টাকা রয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টগুলি পুলিশ বন্ধ করে দেওয়ার পর সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কালীঘাট তৃণমূল হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়। মামলাটি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে ওঠে।

শুনানির পর বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কারা ‘আসল তৃণমূল’, সেই বিষয়ে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্টগুলি নিয়ে নতুন করে কোনও নির্দেশ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে চারটি অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে সব পক্ষকে হলফনামা দিয়ে আদালত নিজেদের বক্তব্য জানাতে নির্দেশ দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে রাজ্যকে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্টও জমা দিতে হবে।

শুনানির সময় রাজ্যের তরফে আদালতকে জানানো হয়, বিধাননগর সাইবার থানার মামলার তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তে দেখা গিয়েছে, ওই চারটি অ্যাকাউন্টে দেবরাজ চক্রবর্তী একাধিকবার ১০ কোটি টাকা করে জমা দিয়েছেন। এ ছাড়াও, লিপস অ্যান্ড বাউন্সের তরফে ৩০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। রাজ্যের আরও দাবি, সুমিত রায় ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে সাত কোটি টাকা দিয়েছেন। রাজ্যের বক্তব্য, টাকা লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এই পরিস্থিতিতে অ্যাকাউন্টগুলি খোলার বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। পুজোর ছুটির পর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।


Share