Allegation of Extortion

টাকা দিলেই মিলবে নির্মাণের অনুমোদন, তারকেশ্বর বিধায়ক সন্ত পানের আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ, অস্বীকার বিজেপি নেতার

অভিযুক্তের নাম সুশোভন রায়। হুগলির তারকেশ্বরে ঘটনাটি ঘটেছে। সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুশোভন রায় ও বিজেপি বিধায়ক সন্তু পান। অভিযোগের তদন্ত দাবি করেছে বিজেপির একাংশ।

বিজেপি বিধায়ক সন্তু পান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, তারকেশ্বর
  • শেষ আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৬:০৭

তারকেশ্বরের বিজেপির বিধায়ক সন্তু পানের আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের নাম সুশোভন রায়। তাঁর বিরুদ্ধে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করে দেওয়ার নাম করে প্রোমোটারের কাছ থেকে ১৪ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ ঘিরে তারকেশ্বরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি সরকার তোলাবাজির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে। দলের নেতা-নেত্রী ও পদাধিকারীদেরও সতর্ক করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে শোকজও করেছে দল। বেশ কয়েক জন বিধায়কের বিরুদ্ধে তোলাবাজিতে মদত দেওয়ায় কোর কমিটির বৈঠকে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন দলের রাজ‍্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তার আগে আরেকটি বৈঠক থেকে দলের বিধায়কদের সতর্কও করেছিলেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল। এ সব কর্মকান্ডে জড়িত না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার পরেও থামার কোনও লক্ষণই। এর মধ্যেই আরও এক বিজেপি বিধায়কের আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে তারকেশ্বর পুরসভা ন’টি নির্মাণকারী সংস্থাকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। অভিযোগ, এরপরই কাজ ফের শুরু করার পুরসভার অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা চান বিজেপি বিধায়ক সন্ত পানের আপ্তসহায়ক সুশোভন রায়। 

এক স্থানীয় প্রোমোটারের অভিযোগ, কাজ বন্ধের নোটিসের পর সুশোভন তাঁকে ফোন করেন। তাঁকে টাকা দিলে তবেই কাজ শুরু করার অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য তাঁকে দেখা করতেও বলা হয়। অভিযোগ, দেখা করার পর তাঁর কাছে ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। পরে ওই প্রোমোটার ১৪ লক্ষ টাকা তুলে দেন। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও কাজ শুরু করার অনুমোদন মেলেনি। এরপর তিনি সুশোভনের কাছ থেকে টাকা ফেরত চান। তাঁর দাবি, তিনি এখনও টাকা ফেরত দেননি।

ওই প্রোমোটারের আশঙ্কা, থানায় অভিযোগ জানালে তাঁর ওপরে হামলা হতে পারে। সেকারণে থানায় অভিযোগ জানাতে ভয় পাচ্ছেন। অভিযুক্ত বিধায়কের আপ্ত সহায়ক হওয়ায় ভয় আরও বেশি বলে ওই প্রমোটার দাবি করছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাড়ি তৈরির জন্য তিনি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েছেন। কাজ শেষ না হলে সেই ঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও তিনি দাবি করেন।

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুশোভন রায়। তাঁর দাবি, বিধায়ক সন্তু পানকে কালিমালিপ্ত করতেই এই অভিযোগ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টিই মনগড়া বলে তিনি জানান। কারও কাছ থেকে তিনি টাকা নেননি বলেও দাবি করেছেন সুশোভন। বিধায়ক সন্তু পানও অভিযোগ খারিজ করেছেন।

অন্য দিকে, বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি গণেশ চক্রবর্তী ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, তোলাবাজি কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অভিযোগের সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন বিজেপি নেতা গণেশ চক্রবর্তী।


Share