Colombia Earthquake

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প, মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়াল, জখম ৮০ জন, ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু, চলছে উদ্ধারকাজ

মূল ভূমিকম্পের পর রিখটার স্কেলে ২.৮ এবং ৪.৮ মাত্রার দুটি আফটারশকও অনুভূত হয়েছে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক বিভাগ জানিয়েছে, গত এক দশকে দেশে রেকর্ড হওয়া ভূমিকম্পগুলির মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ মাত্রার। সেই দেশে একাধিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত কলম্বিয়া।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ ০১:০৭

শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত কলম্বিয়া। সোমবার ভোরে পশ্চিম কলম্বিয়ায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে। ঘটনায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। সংবাদ সংস্থা এপি জানাচ্ছে, ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একাধিক শহরে বহুতল ভবন ভেঙে পড়েছে। ৮০ জনের বেশি মানুষ জখম হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বহু মানুষ আটকে রয়েছেন। উদ্ধারকাজ চলছে। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৭.৪। 

আমেরিকার ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা (ইউএসজিএস) এবং কলম্বিয়ার সংশ্লিষ্ট সংস্থা জানিয়েছে, চোকো অঞ্চলের ছোট শহর সান হোসে দেল পালমারে এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল। দেশের রাজধানী বোগোটা থেকে ওই এলাকাটি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। সেখানে প্রায় চার হাজার ৮০০ জন মানুষ বসবাস করেন। মাটির প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল বলে জানা গিয়েছে। শুধু কলম্বিয়া নয় ইকুয়েডর এবং পানামাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে সেখানে বড়সড় ঘটনার খবর মেলেনি। 

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা ভাষণে জানান, “ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১১ হয়েছে। শত শত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৮৭ জন মানুষ জখম হয়েছেন। অনেক বহুতল ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিক ভাবে ধসে পড়ে গিয়েছে।” ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। এর ফলে উদ্ধারকাজ ও পুনর্গঠন করতে দ্রুত অর্থ বরাদ্দ করা সম্ভব হবে জানিয়েছেন।

পশ্চিম কলম্বিয়ার পেরেইরা, কুইবদো, কালি এবং মানিজালেস শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বহুতল ভবন ধসে পড়ায় ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকে আটকে রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করার কাজ চলছে। পাশাপাশি আফটারশকের সতর্কতাও জারি করেছে কলম্বিয়ার প্রশাসন। কলম্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সেই দেশের ২০টিরও বেশি পুরসভা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মূল ভূমিকম্পের পর রিখটার স্কেলে ২.৮ এবং ৪.৮ মাত্রার দুটি আফটারশকও অনুভূত হয়েছে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক বিভাগ জানিয়েছে, গত এক দশকে দেশে রেকর্ড হওয়া ভূমিকম্পগুলির মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ মাত্রার। সেই দেশে একাধিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।


Share