Rape

আহমেদাবাদে ছাদে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পালাতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ‘এনকাউন্টার’! পায়ে গুলি লেগে গ্রেফতার নিরাপত্তারক্ষী

গলায় তার পেঁচানো থাকায় তরুণী চিৎকার করে সাহায্য চাইতে পারেননি। অভিযুক্ত তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বাইরে থেকে দরজা আটকে পালিয়ে যান।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আহমেদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৬ ০৬:২৩

আহমেদাবাদের আনন্দনগর এলাকায় এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল এক নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর পালিয়ে যান অভিযুক্ত। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে ‘এনকাউন্টার’-এ তাঁর পায়ে গুলি লাগে। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের দাবি, অভিযুক্তকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হলে তিনি পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। তাতেই নিরাপত্তারক্ষীর পায়ে গুলি লাগে। তাঁর কাছ থেকে তরুণীর মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তরুণী আনন্দনগরের একটি আবাসনে পেয়িং গেস্ট হিসাবে থাকেন। তিনি ইনটেরিয়র ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশোনা করছেন। শনিবার রাত ১০টা নাগাদ তিনি ছাদে হাঁটতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, হাঁটা শেষে নীচে নামার সময় নিরাপত্তারক্ষী তাঁকে জোর করে টেনে ছাদের একটি জায়গায় নিয়ে যান। অভিযোগ, তরুণীর গলায় তার পেঁচিয়ে তাঁকে চুপ করিয়ে রাখা হয়। এরপর অভিযুক্ত তাঁকে ধর্ষণ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাঁর উপর অত্যাচার চালানো হয় বলে পুলিশের দাবি। গলায় তার পেঁচানো থাকায় তরুণী চিৎকার করে সাহায্য চাইতে পারেননি। অভিযুক্ত তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বাইরে থেকে দরজা আটকে পালিয়ে যান। নিরাপত্তারক্ষী চলে যাওয়ার পর কোনও রকমে তরুণী চিৎকার করে নীচের তলার প্রতিবেশীদের ডাকেন। তাঁরা ছাদে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং পুলিশে খবর দেন।

ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (জোন ৭) শিবম বর্মা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত মাত্র ছ’দিন আগে ওই আবাসনে নিরাপত্তারক্ষীর কাজে যোগ দিয়েছিলেন। গত চার বছর ধরে তিনি বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ তাঁর সন্ধান চালায়। পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত অবস্থায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষীকে ধরতে ১০টি দল গঠন করা হয়েছিল। এলাকার পাশাপাশি তরুণী যে বাড়িতে থাকেন, পুলিশ সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখে। ফুটেজে দেখা যায়, তরুণী ছাদে যাওয়ার পরই তাঁকে অনুসরণ করে ওই নিরাপত্তারক্ষী সেখানে পৌঁছোন। শনিবার রাতভর তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালানো হয়। রবিবার সকালে হেবতপুরের কাছে অভিযুক্তের সন্ধান মেলে এবং তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেফতারের সময় এক পুলিশকর্মীর কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে অভিযুক্ত গুলি চালান। গুলিতে এক পুলিশকর্মী আহত হন। পাল্টা পুলিশও গুলি চালায়। তাতে আহত হন অভিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষী। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ব্যক্তি উত্তরপ্রদেশের হরদোইয়ের বাসিন্দা। কয়েক দিন আগেই তিনি ওই বাড়িতে নিরাপত্তারক্ষীর কাজে যোগ দিয়েছিলেন।


Share