Bakery

পাউরুটিতেও মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা! ১৭ অগস্ট থেকে বাড়ছে দাম, ময়দা-তেল-প্যাকেজিংয়ের খরচকেই দায়ী বেকারি ব্যবসায়ীরা

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, প্যাকেজিংয়ের কাজে ব্যবহৃত পলিথিন এবং প্রিন্টিংয়ের কালি-সহ বিভিন্ন উপকরণ পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের সঙ্গে যুক্ত। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার প্রভাবেই এই সমস্ত উপকরণের দাম বেড়েছে বলে দাবি বেকারি ব্যবসায়ীদের। ফলে আগামী ১৭ অগস্ট থেকে সাধারণ ক্রেতাদের পাউরুটি কিনতে বাড়তি টাকা গুনতে হবে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৬ ১০:৫১

মূল্যবৃদ্ধির আঁচ এ বার পাউরুটির বাজারে। বেকার অ্যাসোসিয়েশন আগামী ১৭ অগস্ট, সোমবার থেকে বেকারি পাউরুটির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন দামে প্রতি পাউন্ড পাউরুটিতে চার টাকা এবং হাফ পাউন্ড পাউরুটিতে দু'টাকা বেশি খরচ হবে।

বেকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, পাউরুটি তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল ও প্যাকেজিং সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। সেই বাড়তি খরচ সামলাতেই পাউরুটির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেকারি ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, ময়দার দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ছ'টাকা বেড়েছে। পাশাপাশি, চিনির দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ১০ টাকা এবং ভোজ্য তেলের দাম প্রায় আট টাকা করে বেড়েছে। প্যাকেজিং সামগ্রীর দামও উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তাঁদের দাবি। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, প্যাকেজিংয়ের কাজে ব্যবহৃত পলিথিন এবং প্রিন্টিংয়ের কালি-সহ বিভিন্ন উপকরণ পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের সঙ্গে যুক্ত। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার প্রভাবেই এই সমস্ত উপকরণের দাম বেড়েছে বলে দাবি বেকারি ব্যবসায়ীদের। ফলে আগামী ১৭ অগস্ট থেকে সাধারণ ক্রেতাদের পাউরুটি কিনতে বাড়তি টাকা গুনতে হবে।

বেকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, প্যাকেজিং, পলিথিন এবং প্রিন্টিংয়ের কালির মতো বিভিন্ন উপকরণ পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের সঙ্গে যুক্ত। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার জেরে সেই সব উপকরণের দাম বেড়েছে বলে তাঁদের মত।

দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে আরিফুল ইসলাম জানালেন, সব উপকরণের দাম হঠাৎ বেড়ে গিয়েছে। তার জেরে বাধ্য হয়ে পাউরুটির দাম বাড়াতে হচ্ছে বলে জানালেন তিনি। আরিফুল বলেন, ‘ময়দার দাম সাধারণত পুজোর আগে বাড়ে। এত আগে বৃদ্ধি পায় না। কিন্তু এ বার হঠাৎ করে দাম বেড়ে গিয়েছে। কেজিতে ৬ টাকা করে বেড়ে যাওয়ায়, পাউরুটি তৈরির খরচ বেড়েছে। অন্য উপকরণের দামও বেড়েছে।’ তিনি জানাচ্ছেন, চিনি, ভোজ্য তেল থেকে পাউরুটির প্যাকেজিংয়ের দ্রব্যেরও দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, সম্প্রতি চিনির দাম প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে গিয়েছে। ভোজ্য তেলের দাম প্রতি কেজিতে আট টাকা বেড়েছে। পলিথিন থেকে শুরু করে প্যাকেজিং সামগ্রীর দাম দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে।

আরিফুল ইসলামের দাবি, উপকরণের দাম বৃদ্ধির পিছনে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিরও প্রভাব রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, পলিথিন, প্যাকেজিং সামগ্রী থেকে শুরু করে প্রিন্টিংয়ের কালি সবই কোনও না কোনও ভাবে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের সঙ্গে যুক্ত। ফলে পেট্রোলিয়ামজাত সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির প্রভাব বেকারি শিল্পের ওপরও পড়েছে।

পাউরুটি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য। ফলে এর দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের পকেটে সরাসরি প্রভাব পড়ে। তবে দাম বৃদ্ধির ফলে বেকারি ব্যবসাতেও যে ধাক্কা আসবে, তা স্বীকার করেছেন আরিফুল। তাঁর দাবি, কোনও পণ্যের দাম বাড়লেই প্রথম ধাক্কায় প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিক্রি কমে যায়। ফলে দাম বাড়লে ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতির চাপে পড়েই পাউরুটির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।


Share