Goutam Adani

ঘুষ ও জালিয়াতির অভিযোগে আদানির বিরুদ্ধে আমেরিকার মামলা খারিজ, বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তে ‘উদ্বেগ’ বিচারকের

বিশেষ করে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে আদানি আমেরিকায় এক হাজার কোটি আমেরিকার ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মামলা খারিজের সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা-ও জানতে চান বিচারক।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ ০৪:২২

ঘুষ দেওয়া ও জালিয়াতির অভিযোগে শিল্পপতি গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আমেরিকায় চলা মামলা খারিজ করে দিল আদালত। সোমবার স্থানীয় সময় অনুযায়ী, ব্রুকলিনের আমেরিকার জেলা আদালতের বিচারক মামলাটি খারিজের নির্দেশ দেন। তবে তিনি মামলা নিষ্পত্তি নিয়ে আমেরিকার বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তুলেছেন। বিচারকের মতে, এই সিদ্ধান্ত ‘উদ্বেগজনক’।

আদানির বিরুদ্ধে মামলা আর এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে না আমেরিকার প্রশাসন, মে মাসেই তা স্পষ্ট হয়েছিল। ব্রুকলিনের আদালতে সরকারি কৌঁসুলিরা নজিরবিহীন ভাবে আদানির বিরুদ্ধে চলা ঘুষের মামলা খারিজের আবেদন জানান। আদালত সেই আবেদনে সম্মতি দিলেও মামলাটি প্রত্যাহারের কারণ নিয়ে বিচারক একাধিক প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে আদানি আমেরিকায় এক হাজার কোটি আমেরিকার ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মামলা খারিজের সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা-ও জানতে চান বিচারক।

সোমবার বিচারক নিকোলাস গারাওফি আদানির বিরুদ্ধে চলা মামলা খারিজের নির্দেশ দেন। তিনি জানান, আমেরিকার বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আদানির আমেরিকায় বিনিয়োগের বিষয়টি প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি মনে করছেন না। একই সঙ্গে বিচারক মনে করিয়ে দেন, সরকারি কৌঁসুলিদের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করার ক্ষেত্রে একজন বিচারকের ক্ষমতা সীমিত। মামলা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আদানি-পক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে সহকারী সরকারি কৌঁসুলি ট্রেন্ট ম্যাককটারের শলাপরামর্শ নিয়েও বিচারক প্রশ্ন তোলেন। এর আগে ব্রুকলিনের আদালত আমেরিকার বিচার বিভাগের কাছে জানতে চেয়েছিল, কেন আদানির বিরুদ্ধে চলা মামলা খারিজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য ১৩ জুলাই পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। অন্য দিকে, মামলা খারিজের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানি। সোমবার মধ্যরাতে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “বিনম্রতা এবং গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে আমেরিকার আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। সঙ্কটকালেও আমরা সততা, স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসনের উপর ভরসা রেখেছি।” মামলা চলাকালীন তাঁদের উপর আস্থা রাখার জন্য সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানান আদানি।

উল্লেখ্য, আদানি গোষ্ঠীর মালিকানাধীন ‘আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেড’ (এজিএল)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, বাজারদরের তুলনায় বেশি দামে সৌরবিদ্যুৎ বিক্রির বরাত পেতে অন্ধ্রপ্রদেশ-সহ ভারতের একাধিক রাজ্যের সরকারি আধিকারিকদের ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগে মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিদের নামও উল্লেখ করা হয়। ঘুষের অঙ্ক প্রায় ২৬.৫ কোটি ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় দু'হাজার ২৯ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালে আমেরিকার বিচার বিভাগ এবং বাজার নিয়ন্ত্রক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) পৃথক ভাবে ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে অভিযোগ দায়ের করে। পরবর্তীতে সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা শুরু হয়। তবে আদানি গোষ্ঠী শুরু থেকেই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ ও জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই ‘হাই প্রোফাইল’ অভিযুক্তদের নাম থাকা একাধিক মামলা খারিজের আর্জি জানিয়েছে আমেরিকার বিচার বিভাগ। সেই তালিকায় এ বার যুক্ত হল শিল্পপতি গৌতম আদানির বিরুদ্ধে প্রায় দু’বছর ধরে চলা ঘুষের মামলাও।


Share