Birju Keot Case

হালিশহরের ঘটনায় থানার আইসিকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, আইওকে করা হল সাসপেন্ড, মৃতের পরিবারকে চাকরি দিলেন শুভেন্দু

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “কী ভাবে বিরজু কেওটের মৃত্যু হয়েছে তা আমি বা রাজ‍্য পুলিশের ডিজি বলতে পারব না। এই ঘটনায় তিন জন ডাক্তার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করেছে। গোটাটাই ভিডিয়োগ্রাফি করা হয়েছে। সেই রিপোর্ট তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে এলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।”

হালিশহরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হালিশহর
  • শেষ আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৬ ০১:২৪

হালিশহর থানার লকআপে তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওয়টের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি রয়েছে। তা ‘জলের মতো পরিষ্কার’। সোমবার সকালে হালিশহরের মৃত তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে তিনি থানার দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। পাশাপাশি এই ঘটনায় আইন মেনে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মনে করছেন, তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের মৃত্যু পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীনই মৃত্যু হয়েছে। তা একে বারেই ‘জলের মতো পরিষ্কার’ হয়েছে। ঘটনায় যে থানায় কর্মরত পুলিশের গাফিলতির রয়েছে তা স্পষ্ট করে দিয়েন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে রাজ‍্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত এবং উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক ছিলেন। তাঁদের পাশে দাঁড় করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী থানার আইসি তমাল দত্তকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, বিরজু কেওটের মামলার তদন্তকারী আধিকারিককে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরেই দুই আধিকারিককের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়ে যাবে।

পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন বন্দির মৃত্যুর ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৯৬ নম্বর ধারায় একাধিক কী কী পদক্ষেপ করতে হবে তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এমন যদি কোনও ঘটনা ঘটে তাহলে ঘটনার তদন্ত ডেপুটি ম‍্যাজিস্ট্রেট স্তরের আধিকারিকেরকে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসককে এই ঘটনার তদন্ত করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার বিকেলে রাজ‍্যের মুখ‍্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল বিজ্ঞপ্তি জারি করে দেবেন বলে জানিয়েন।

এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে জেলাশাসক দেখবেন, কখন বিরজু কেওটকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। লকআপের ভিতরে কোন আধিকারিক কখন গিয়েছেন, তাঁর ওপর কতটা অত্যাচার করা হয়েছে। তাঁকে আদৌ অত‍্যচার করা হয়েছে নাকি অসুস্থ হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে কয়েদিকে কখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, লকআপের ভিতরে থাকা বাকি কয়েদিরা কী বলছেন, তা রেকর্ড করা হয়। পাশাপাশি থানার সিসি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হয়। অন‍্য দিকে, ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও পৃথক ভাবে এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। তাঁরা তদন্তকারী ম‍্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করতে পারে।

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, “কী ভাবে বিরজু কেওটের মৃত্যু হয়েছে তা আমি বা রাজ‍্য পুলিশের ডিজি বলতে পারব না। এই ঘটনায় তিন জন ডাক্তার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করেছে। গোটাটাই ভিডিয়োগ্রাফি করা হয়েছে। সেই রিপোর্ট তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে এলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। কিন্তু লকআপে থাকাকালীনই তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা জলের মতো পরিষ্কার।”

মৃত তৃণমূলকর্মী বিরজু কেওট কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য প্রাক্তন কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী। বিরজু প্রাক্তন পুরপ্রধান ও তৃণমূল নেতা কমল অধিকারীর ছায়াসঙ্গী বলে পরিচিত ছিলেন। তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে শুক্রবার ওই তৃণমূল কর্মীকে হালিশহর থানা গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে দাবি, শনিবার ভোরে বিরজু কেওট আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

এ দিন মৃতের স্ত্রী জেনি শর্মা কেওটের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। মৃতের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। পাশাপাশি তৃণমূল কর্মীর স্ত্রীকে অ‍্যাটেডেন্ট পদে নিয়োগ করার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয় পুলিশের ওপরে পরিবারের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ‍্য পুলিশের ডিজির ওপরে ভরসা রেখেছেন। তিনি বলেন, “তার জন‍্য আমরা কৃতজ্ঞ। সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ব পালন করতে আমরা এসেছি।”

রাজ‍্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় বিরোধী দলের মৃত কর্মীর বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীরা কখনও গিয়েছেন বলে কেউ মনে করতে পারছেন না। এমন ঘটনার পরে মুখ্যমন্ত্রী সশরীরে হালিশহরে যাওয়ার ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল জমানায় পুলিশের গাফিলতি এ ভাবে কেউ স্বীকার করেনি। আরজি করের ঘটনা তার নিদর্শন ছিল। পুলিশের গাফিলতির জন‍্য সরকারের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়বে, এমন ঘটনা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তা মেনে নেওয়ারও কথা নয়। তাই দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করে বাকিদের বার্তা দিলেন বলে মনে করছে তাঁরা।


Share