Border Road Development

আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ হাজার কিলোমিটার সীমান্তবর্তী এলাকায় সড়ক নির্মাণ করবে কেন্দ্রীয় সরকার, দু’লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা

সরকারের ‘গতি শক্তি’ প্রকল্পের সঙ্গেও সড়কগুলিকে নির্মাণের পরিকল্পনাকে যুক্ত করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলের পরিকাঠামোগত ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি সেনা, সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ ও অন্যান্য রসদের দ্রুত পরিবহণ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪৮

সীমান্তবর্তী এলাকাকে সুরক্ষিত করতে আগামী পাঁচ বছর বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। জানা গিয়েছে, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে সীমান্তবর্তী এলাকায় পাঁচ হাজার কিলোমিটারের বেশি হাইওয়ে নির্মাণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সীমান্তকে সুরক্ষিত করতে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই সড়ক সম্প্রসারণ হলে বাণিজ‍্য, পর্যটন এবং বিনিয়োগের রাস্তা আরও সুগম হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। তার পরিকল্পনা করার সময়ই এই সড়কগুলির সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ বলে আধিকারিকেরা মনে করছেন। আগামী কয়েক বছরে এই প্রকল্পে দু’লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের পরিকল্পনায় চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, ভূটান ও মায়ানমারের সঙ্গে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় সড়কপথগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই সড়কপথগুলি কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই সীমান্তবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তৈরি হওয়া সড়কগুলির সঙ্গে এই নতুন প্রকল্পগুলিকে যুক্ত করা হবে বলেও জানা গিয়েছে। 

সরকারের ‘গতি শক্তি’ প্রকল্পের সঙ্গেও সড়কগুলিকে নির্মাণের পরিকল্পনাকে যুক্ত করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলের পরিকাঠামোগত ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি সেনা, সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ ও অন্যান্য রসদের দ্রুত পরিবহণ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। উন্নত সড়ক যোগাযোগের ফলে দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা ও বাজারে পৌঁছোনোর সুযোগও বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে। 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের মোট পণ্য পরিবহণের প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং যাত্রী পরিবহণের প্রায় ৯০ শতাংশ সড়কপথে হয়ে থাকে। ফলে এই বিনিয়োগ তাৎক্ষণিক ভাবে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এই প্রকল্প উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন, স্থানীয় উদ্যোগ, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামাজিক পরিকাঠামোতে মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়াতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর-পূর্ব ভারত-সহ অন্যান্য অনুন্নত সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। 

এই সমস্ত সড়কগুলি ব‍্যবহারযোগ‍্য হলে দুর্যোগ মোকাবিলার ব্যবস্থাও আরও উন্নত হতে পারে। পাশাপাশি গুদাম, লজিস্টিক্স-সহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগও বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে এই প্রকল্পের সাফল্যের জন্য সময়মতো বাস্তবায়ন, শক্তিশালী পরিকাঠামো এবং একাধিক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। 


Share