Pakistan Crisis

‘শান্তি কমিটিতে’ জঙ্গি কমান্ডার! পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অচলাবস্থা কাটাতে পাঠানো হয়েছে লস্করের ইলিয়াসকে, প্রশ্ন আন্তর্জাতিক মহলের

ওসিনেট টিভিতে প্রকাশিত একটি ভিডিয়ো অনুযায়ী, তাতে পাকিস্তানের ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার কমান্ডার ইলিয়াস কাশ্মিরিকে দেখা গিয়েছে। এমন অবস্থা যে ক‍্যামেরা দেখে জঙ্গি ইলিয়াস মুখ লুকোনোরও চেষ্টা করছে।

শান্তি কমিটিতে ইসলামিক জঙ্গি নেতা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পাকিস্তান
  • শেষ আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪৩

বেশ কিছু দিন ধরেই অশান্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীর। সেখানে প্রতিষ্ঠান বিরোধী আন্দোলন অব‍্যাহত রয়েছে। সেখানকার অশান্তি থামাতে তথাকথিত শান্তি কমিটি গঠন করেছে ইসলামাবাদ। অভিযোগ, সেই শান্তি কমিটির প্রতিনিধি দলে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের কমান্ডার ইলিয়াস কাশ্মিরিকে রাখা হয়েছে। পাকিস্তানের নিষিদ্ধ সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী একশন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এই নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এই শান্তি কমিটি গঠন করেছে। তাদের ঠিক করে দেওয়া সদস‍্যরাই রাওয়ালকোটে জয়েন্ট আওয়ামি একশন কমিটির (জেএএসি) নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল। এমন বৈঠকে জঙ্গি সংগঠনের নেতা ইলিয়াস কাশ্মিরিকে কেন রাখা হল তা নিয়ে আবার আন্তর্জাতিক মহলের প্রশ্নের মুখে পড়েছে ইসলামাবাদ। এই বৈঠকে তার ভূমিকা কী তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে আইএসআই যে সরাসরি যে ইসলামিক জঙ্গিদের মদত দেয় তা-ও আবার স্পষ্ট হল।

ওসিনেট টিভিতে প্রকাশিত একটি ভিডিয়ো অনুযায়ী, তাতে পাকিস্তানের ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার কমান্ডার ইলিয়াস কাশ্মিরিকে দেখা গিয়েছে। এমন অবস্থা যে ক‍্যামেরা দেখে জঙ্গি ইলিয়াস মুখ লুকোনোরও চেষ্টা করছে। পহেলগামে ইসলামিক জঙ্গি হামলার পরে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান করেছিল। তাতে যে জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজাহারের গোটা পরিবার ছিন্নভিন্ন হয়েছিল। একটি ভিডিয়োর মাধ্যমে সেই ঘটনাটিকে ইলিয়াস নিশ্চিত করেছিল। ইলিয়াস বলেছিল, ‘রেজা রেজা’, যার অর্থ ‘ছিন্নভিন্ন’।

গত কয়েক দিন ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীর উত্তপ্ত। সেখানকার মানুষের ওপরে ইসলামাবাদের ‘অত‍্যাচারের’ বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছে জয়েন্ট আওয়ামি অ‍্যাকশন কমিটি বা জেএএসি। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মূল্যবৃদ্ধি, অত‍্যাধিক বিদ্যুতের বিল, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে সরব হয়েছেন। পাশাপাশি, ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন অভিযোগও উঠেছে। যত ক্ষণ না ইসলামাবাদ তাঁদের দাবি মেনে নেবে ততদিন তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। কিছু দিন আগে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সেনার গুলিতে ৪০ জন আন্দোলনকারী প্রাণ হারিয়েছেন। প্রচুর মানুষ জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় জেএএসিকে ‘দেশবিরোধী’ বলেছিল পাকিস্তানের আরেক ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জেএএসিকে আন্দোলন করতে দিলে সেখানে জনপ্রিয় হবে। তাদের প্রভাব বাড়বে। ফলে কাশ্মীরে জেহাদি কার্যকলাপ চালাতে লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জয়শ-ই-মহম্মদ দুর্বল হবে।


Share