Suvendu Adhikari

স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে নজিরবিহীন উদ্যোগ, রাষ্ট্রপতির পর আকাশবাণীতে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে বেতারবার্তা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাঁর বেতার ভাষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে তাঁর এই বার্তায় কী বিষয় উঠে আসে, এখন সে দিকেই নজর।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ ১২:৩৬

রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে এ বছরের স্বাধীনতা দিবস ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক নতুন উদ্যোগের ইঙ্গিত মিলেছে। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রীতি মেনে দূরদর্শন ও আকাশবাণীর মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। একই দিনে আকাশবাণী কলকাতা থেকে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে বেতারবার্তা দেবেন রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। প্রোটোকল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ভাষণের পরেই মুখ্যমন্ত্রীর এই বেতারবার্তা সম্প্রচারিত হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। তবে প্রসার ভারতী বা আকাশবাণীর তরফে এখনও মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের নির্দিষ্ট সময় বা কোন ব্যান্ডে তা সম্প্রচার করা হবে, সে বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাঁর বেতার ভাষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে তাঁর এই বার্তায় কী বিষয় উঠে আসে, এখন সে দিকেই নজর।

রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে এ বছরের স্বাধীনতা দিবস ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক নতুন উদ্যোগের ইঙ্গিত মিলেছে। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রীতি মেনে দূরদর্শন ও আকাশবাণীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন। আর এ বার একই দিনে আকাশবাণী কলকাতা থেকে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বেতারবার্তা দেবেন।

প্রোটোকল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ভাষণের পরেই মুখ্যমন্ত্রীর বেতারবার্তা সম্প্রচারিত হতে পারে। যদিও প্রসার ভারতী বা আকাশবাণীর তরফে এখনও ভাষণের নির্দিষ্ট সময় বা কোন ব্যান্ডে তা সম্প্রচারিত হবে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাঁর বেতার ভাষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কোনও মুখ্যমন্ত্রীর এ ধরনের বেতার ভাষণ পশ্চিমবঙ্গে কার্যত নজিরবিহীন। জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময় স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে এমন বেতার ভাষণের নজির নেই। তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের বেতারবার্তা দেওয়ার নজির অতীতে রয়েছে। সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় রাজ্যের উন্নয়ন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নিয়মিত মাসিক বেতারবার্তা দিতেন। প্রফুল্লচন্দ্র সেনও রাজ্যের পরিস্থিতি ও বিভিন্ন ইস্যুতে বেতারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন। এমনকি বিধানচন্দ্র রায়-সহ একাধিক মুখ্যমন্ত্রী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আগে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বেতারবার্তা দিয়েছেন। সেই হিসেবে প্রায় পাঁচ দশক পর পশ্চিমবঙ্গের কোনও মুখ্যমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে বেতারবার্তা দিতে চলেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস রক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা একাধিক বার জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্যের ঐতিহ্য সংরক্ষণের কাজও করবে সরকার। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এ বারের স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে সেই ভাবনারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। বাম আমলে স্বাধীনতা দিবসে মহাকরণের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হত। ১৯৭৭ সালে প্রথম বার জ্যোতি বসু সেখানে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন পূর্তমন্ত্রী যতীন চক্রবর্তী সেই দায়িত্ব পালন করতেন। বাম সরকারের শেষ পর্বে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন এবং কুচকাওয়াজে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য অভিবাদন গ্রহণ করতেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বছর মহাকরণের সামনেই স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। তবে ২০১২ সাল থেকে সেই অনুষ্ঠান রেড রোডে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ বারও রেড রোডে স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে উপস্থিত থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তবে বিরোধীরা সরকারের এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক ভাবে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছে। তাদের দাবি, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে নতুন ভাবে ব্যাখ্যা করার বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসাবেই এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গের স্থপতি হিসেবে তুলে ধরা নিয়েও ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যতিক্রমী বেতারভাষণ নিয়েও বিরোধীদের সমালোচনা শুরু হয়েছে।


Share