Middle East Conflict

যুদ্ধের বদলে চুক্তির পথে ট্রাম্প! ইরানের বিরুদ্ধে হামলা আপাতত স্থগিত, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া ও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে কড়া শর্ত আমেরিকার

এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি দাবি করেন, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার বিরোধী দেশগুলি যুদ্ধ এড়াতে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। ট্রাম্পের আরও দাবি, সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে আমেরিকার শর্ত মেনেও এগোতে তারা সম্মতি জানিয়েছে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬ ০১:৫৩

ইরান এবং পশ্চিম এশিয়ায় তার মিত্র শক্তিগুলির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। এমনটাই জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি দাবি করেন, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার বিরোধী দেশগুলি যুদ্ধ এড়াতে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। ট্রাম্পের আরও দাবি, সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে আমেরিকার শর্ত মেনেও এগোতে তারা সম্মতি জানিয়েছে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ট্রুথ সোশ্যালে করা এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ওই চুক্তিতে হরমুজ় প্রণালী অবিলম্বে সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ট্রাম্পের বক্তব্য, ‘‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে ইরানের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পুরোপুরি প্রস্তুত আমেরিকা। তবে ইরান এবং পশ্চিম এশিয়ার অন্য দেশগুলি যে কোনও ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকতে আমাদের অনুরোধ করেছে।’’ এর পরই সম্ভাব্য চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যে সমঝোতা হতে চলেছে, সেখানে মূলত দু’টি শর্তের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে উদ্ভূত হুমকির স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘‘বিশ্বের ভবিষ্যতের স্বার্থে অনুরোধে সাড়া দিয়েছি।’’ তিনি মনে করেন, ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করার ক্ষমতা আমেরিকার আছে। তবে ট্রাম্প চান, ইরান টিকে থাকুক। আর সেই কারণে আবার চুক্তি করার শর্তে আসন্ন হামলার পথ থেকে সরে আসছে আমেরিকা। শুধু আমেরিকা নয়, ইজরায়েলও চুক্তি করতে রাজি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তাঁর উপদেশ,ও আম ‘‘দ্রুত কাজ শুরু করো। অবিলম্বে কাজটা শেষ করতে হবে।’’

তবে ট্রাম্পের এই নতুন দাবির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগেও ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে একাধিকবার শান্তি-আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকও হয়েছিল। সেই আলোচনায় উভয় পক্ষই নিজেদের শর্ত পেশ করে এবং একটি সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তিতে রূপ নেয়নি। এরপরই ফের পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে এবং দুই পক্ষের সম্পর্ক আবারও সংঘাতের পথে এগোয়।

জর্ডনে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, ইরানের মদতে ইরাক থেকে ওই হামলা চালানো হয়েছে। এর পর থেকেই পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ শুরু করে আমেরিকা। এই আবহেই শুক্রবার (স্থানীয় সময়) ক্যাবিনেট বৈঠকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার উপর তাঁর আর আস্থা নেই। তিনি ইঙ্গিত দেন, তেহরানের বিরুদ্ধে আরও জোরালো সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর দাবি, প্রশাসনিক সূত্রের বরাতে জানা গিয়েছিল, এই সপ্তাহান্তেই (শনিবার বা রবিবার) ইরানের উপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল এবং সেই অনুযায়ী পেন্টাগনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। মেরিল্যান্ডে ওই ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমরা ওদের উপর জোরালো আঘাত হানব। এমন হাল করে দেব যাতে ওরা বলে, আর সহ্য করতে পারছি না।” তবে সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।


Share