Special Intensive Rivision

এসআইআরের ট্রাইবুনালে কতগুলি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে? নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট, আগামী ২৫ অগস্ট আবার শুনানির সম্ভাবনা

এই মামলাটির শুনানি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল‍্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে শুনানি হয়েছে। সূপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, ট্রাইবুনালে শুধুমাত্র আবেদন জমা পড়লেই হবে না। সেই আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করাও প্রয়োজন বলে মনে করছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ ০৩:১২

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন হয়েছে। ভোট হয়েছে। অভিযোগ, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে তাঁদের আবেদন এখনও পর্যন্ত নিষ্পত্তি ট্রাইবুনাল করেনি। ফলে তাঁরা সরকারের সামাজিক প্রকল্পগুলি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই অভিযোগ নিয়ে কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। সেই মামলাতেই এখনও পর্যন্ত কতগুলি আবেদন নিষ্পত্তি করেছে ট্রাইব্যুনাল তা সুপ্রিম কোর্টকে জানাতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে।

একাধিক দাবিদাওয়া নিয়ে কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এসআইআরের মাধ্যমে অনেক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তাঁরা ভোটার তালিকায় নাম তুলতে চেয়ে অ‍্যাপিলেট ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এই ট্রাইবুনাল তৈরি হয়েছে। হাই কোর্টের তত্ত্বাবধানে এই কাজ চলছে। দেখা যাচ্ছে, ট্রাইবুনালের কাজ এগোচ্ছে না। ধীরগতিতে কাজ চলছে।

এই মামলাটির শুনানি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল‍্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে শুনানি হয়েছে। সূপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, ট্রাইবুনালে শুধুমাত্র আবেদন জমা পড়লেই হবে না। সেই আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করাও প্রয়োজন বলে মনে করছে। বিচারপতি জয়মাল‍্য বাগচী কথায়, ট্রাইবুনালের পুরো কাঠামোটি নতুন করে ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। বিচারকদের অনলাইন ব্যবস্থায় যুক্ত করার মতো বিষয় সেখানে রয়েছে। ভবিষ্যৎমুখী আরও অনেক ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে নেওয়া যেতে পারে। কতগুলি আবেদনের নিষ্পত্তি ট্রাইবুনাল করতে পেরেছে তা এই মামলার মূল বিষয়। কার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বা কার নাম তালিকায় রাখা হয়েছে তা মূল বিষয়। এর পরেই নির্বাচন কমিশনের কাছে এখনও পর্যন্ত কত আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে তার পরিসংখ্যান সুপ্রিম কোর্টের কাছে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী আদালতের কাছে দাবি করেন, রাজ‍্য সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলির সুবিধা কারা পাবেন তা নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এসআইআরের নাম না থাকলে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না বলা হয়েছে। তালিকায় নাম থাকা থাকায় গণবন্টন ব্যবস্থা থেকে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে এই বিষয়ে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ করার দাবি জানান তিনি।

তবে এই বিষয়ে শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, গণবন্টন ব্যবস্থার প্রসঙ্গ এখানে এ ভাবে উত্থাপন করা যাবে না। আবেদনের পরিধি বাড়ানো হলে শীর্ষ আদালত তা গ্রহণ করতে পারবে না। এই বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টে যেতে হবে। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কার্যপ্রণালী নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আলোচনা করতে পারে। কিন্তু অধীর জানান, ট্রাইবুনালে আবেদন ধীরগতিতে নিষ্পত্তির জন‍্যই গণবন্টন প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা।

এই প্রসঙ্গে শীর্ষ আদালত বলে, এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার তথ্য ব্যবহার করে যদি রাজ‍্য সরকার কোনও ব্যক্তিকে গণবন্টন ব‍্যবস্থা থেকে বঞ্চিত করে, তাহলে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। তার কারণ আলাদা। সেই বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্টেই উত্থাপন করতে হবে। কলকাতা হাই কোর্টই তা শুনবে বলে বিচারপতি বাগচী জানিয়েছেন।

স্পষ্ট বলেন, “মূল বিষয় হল কতগুলি আবেদন ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি করেছে। কত জনের নাম ভোটার তালিকায় রাখা হয়েছে। আবার কত জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। গণবন্টন ব‍্যবস্থা এই মামলার প্রধান বিষয় নয়।” নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু একই ধরনের অন্যান্য মামলার সঙ্গে এই মামলাটিকে যুক্ত করার আবেদন করেন। আগামী ২৫ আগস্ট শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার আবেদন জানান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।

উল্লেখ্য, রাজ্যের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পরে বাদ পড়ায় বিধানসভা নির্বাচনে লক্ষ লক্ষ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত ট্রাইবুনাল। বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন জমা পড়লেও বহু আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বহাল রাখে। তবে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, ভোটার তালিকায় কোনও ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, সেই সীমিত উদ্দেশ্যেই নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভারতীয় নাগরিকত্ব যাচাই করতে পারবে।


Share