Human Trafficking

চাকরির লোভ দেখিয়ে কলকাতার যুবকদের উজবেকিস্তানে পাচারের অভিযোগ, থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার দু’জন

কলকাতায় ফিরে তাঁরা ঠাকুরপুকুরের সংস্থায় যায়। টাকা চাইলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এর পরেই তাঁরা একবালপুর থানায় জিরো এফআইআর করেন। পরে তা ঠাকুরপুকুর থানায় পাঠিয়ে দেয় পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৬ ০৯:১৯

শহরে চলছে নিয়োগকারী সংস্থার নাম করে মানব পাচার চক্র। সমাজমাধ‍্যমে মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে ফাঁদে পা দেয় দুই যুবক। তাঁদের বিদেশে গিয়ে স্বচ্ছল জীবনযাপনের স্বপ্ন ছিল। তা আর হল না। অভিযোগ, দুই যুবককে উজবেকিস্তানে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে দু’জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

অভিযোগ, দুই যুবক সমাজমাধ‍্যমে মোটা অঙ্কের টাকার বেতনের একটি বিজ্ঞাপন দেখেন। তাতে প্রলোভিত হয়ে ওই নিয়োগকারী সংস্থার দ্বারস্থ হন। ওই সংস্থার তরফ থেকে দুই যুবকে তুরস্কে চাকরি দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। দু’জনের কাছ থেকে মোট চার লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। হোয়াটসঅ‍্যাপের মাধ্যমে ভুয়ো ভিসা পাঠানো হয়। দুই যুবক দিল্লিতে গিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। তা হাতে পাওয়ার পরে তাঁদের নজরে আসে, দু’জনকেই উজবেকিস্তানে পাঠানো হচ্ছে। পুনরায় ওই নিয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বলা হয়, উজবেকিস্তানে যাওয়ার পরে ভিসা বদল করে দেওয়া হবে।

এর পরে তাদের ওপর বিশ্বাস করে দুই যুবক উজবেকিস্তানে যায়। দুই যুবকের দাবি, সেখানে পৌঁছোনোর পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। গিয়ে দেখেন, ভিসায় যে হোটেলের নাম দেওয়া হয়েছিল তা সম্পূর্ণ ভুয়ো। তাঁদের সেখানে ডেলিভারি বয়ের কাজ করানো হত। দিনে একবেলা খাবার জুটত। ওই হোটেলে থাকার জন্যও নিজেদের পকেট থেকে টাকা খরচ করতে হত।

তাঁদের এ-ও অভিযোগ, পর্যটন ভিসায় কাজ করার অভিযোগে এক যুবককে সেখানে গ্রেফতারও হতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পুলিশের ঝামেলা এড়াতে সেখানকার দালালের সাহায্য নেয়। চোরাপথে তাঁরা উজবেকিস্তান থেকে কাজাখস্তানে পালিয়ে যান। সেখানে কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর কোনও মতে কলকাতায় ফেরেন।

দুই যুবকের বাড়ি একবালপুর থানা এলাকায় বলে জানা গিয়েছে। নিয়োগকারী সংস্থাটি ঠাকুরপুকুর থানা এলাকায়।কলকাতায় ফিরে তাঁরা ঠাকুরপুকুরের সংস্থায় যায়। টাকা চাইলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এমনকী, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ারও হুমকি দেয়। এর পরেই তাঁরা একবালপুর থানায় জিরো এফআইআর করেন। পরে তা ঠাকুরপুকুর থানায় পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। তিন জনের নামে এফআইআর দায়ের হয়। তাদের মধ্যে দু’জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কুণাল আগারওয়াল জানিয়েছেন, “এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত তাঁদের তিনদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। ভুয়ো এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”

সম্প্রতি তামিলনাড়ুতে মোটা বেতনের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক যুবতীকে বাংলাদেশে পাচারের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, তাঁকে সেখানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। কোনও মতে পালিয়ে গিয়ে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন ওই তরুণী। তাঁকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুধু মহিলারাই নন, এই চক্রের ফাঁদে যুবকেরাও পড়ছেন। সম্প্রতি কলকাতার একাধিক ঘটনায় সেই আশঙ্কাই আরও জোরালো হয়েছে।


Share