Abhishek Banarjee

‘পুলিশ তদন্ত করুক, অভিষেক সহযোগিতা করবেন, তবে কড়া পদক্ষেপ নয়’, ১৬ মামলায় রক্ষাকবচ বহাল হাই কোর্টের

মঙ্গলবারের শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্যের কাছে জানতে চান, গত ৪ মে-র আগে অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের হয়েছিল কি না, থাকলে সংশ্লিষ্ট এফআইআরগুলি আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেন তিনি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ ০২:৫০

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ বহাল রাখল কলকাতা হাই কোর্ট। বিধানসভা নির্বাচনের পর বিভিন্ন অভিযোগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ১৬টি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে পুলিশ আপাতত ওই মামলাগুলিতে অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৫ অগস্ট।

এ দিন আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন এবং অয়ন ভট্টাচার্য অভিষেকের হয়ে সওয়াল করেন। মঙ্গলবারের শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্যের কাছে জানতে চান, গত ৪ মে-র আগে অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের হয়েছিল কি না, থাকলে সংশ্লিষ্ট এফআইআরগুলি আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেন তিনি। জবাবে রাজ্যের আইনজীবী তথা অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) জানান, ৪ মে-র আগে অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও মামলা দায়ের হয়নি।

বিচারপতি বলেন, “অভিষেকের আবেদন মোতাবেক আদালত এখনই কোনও এফআইআর খারিজ করছে না। পুলিশ তদন্ত করুক। অভিষেককে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ।” বিচারপতি জানান, এখনই চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দেবে। বিচারপতি বলেন, “আগেই অন্তবর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। এই অবস্থায় এখন রক্ষাকবচ না-দিলে আগের নির্দেশের কোনও অর্থ থাকবে না।”

রাজ্যের তরফে আদালতে সওয়াল করা হয়, অভিষেকের আবেদন খারিজ করা হোক। তাঁকে অন্তর্বর্তিকালীন সুরক্ষা দেওয়ার কোনও আইনি ভিত্তি নেই বলেও আদালতে জানানো হয়। বিচারপতি বলেন, “যদি কোনও অপরাধ হয়ে থাকে, তবে আপনারা তদন্ত করুন। আমরা আপনাদের তদন্তে বাধা দিচ্ছি না। তবে অভিষেক তদন্তে সহযোগিতা করবেন। আদালতের নির্দেশে যদি তাঁর সহযোগিতা নিশ্চিত করা যায়, তা হলে সমস্যা কোথায়?”

একই সঙ্গে বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, “এই এফআইআর কে করেছেন? যিনি অভিষেকের কাছে দু’বার নির্বাচনে হেরেছেন? এফআইআর-এর পিছনে পরিস্থিতি এবং অভিযোগের সময়কাল নিয়েও বিবেচনা করা উচিত।” প্রসঙ্গত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি) একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার আসনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে অভিষেকের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

মামলার শুনানিতে অভিযোগকারীর আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, ভোটের আগে অভিষেক অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা সম্ভব হয়নি। তিনি এখনও তিনি প্রভাবশালী এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। এর পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন করেন, অভিষেক যদি এখনও এতটাই প্রভাবশালী হন, তা হলে তাঁর আমতলার দলীয় দফতর কী ভাবে ভাঙা হল? বিচারপতি আরও উল্লেখ করেন, ছুটির দিনেও ওই ঘটনায় আদালতকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) সুরজিৎ নাথ মিত্র পাল্টা দাবি করেন, যে ভবনটি ভাঙা হয়েছে, সেটি অভিষেকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। বিষয়টি আদালতকেও জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এর পর বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “ওই ভাঙার কাজ আগে হলে করতে পারতেন?”


Share