TMC Leader Arrested

বিজেপি সমর্থকের কাছ তোলার টাকা না মেলায় মাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, ভবানীপুর থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা

আক্রান্ত বিজেপি সমর্থক জানিয়েছে, “আমাকে এমন জোরে মেরেছে, আমার মাথা অবধি পুরো ধরে গেছে। আমি কিছু করিনি। আমি বিদেশে ছিলাম। আমার থেকে টাকা চাওয়া হয়েছিল। ফেরার পরে আমায় কাছ থেকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে টাকা চাওয়া হয়েছে।“

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ভবানীপুর
  • শেষ আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৬ ১১:৩৫

বিজেপি সমর্থকের তোলার টাকা না মেলায় তাঁর মাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি সমর্থক ভবানীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনায় তৃণমূল নেতা সন্দীপ সাউকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সন্দীপ সাউ প্রাক্তন যুব তৃণমূলের ব্লক সভাপতি বলে জানা গিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ভবানীপুর বিধানসভার পুরসভার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটেছে। আক্রান্ত বিজেপি সমর্থকের অভিযোগ, তাঁকে রাস্তায় দাঁড় করানো হয়। সেই সময় তাঁর কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা তোলা চেয়েছিলেন যুব সন্দীপ সাউ। টাকা দিতে অস্বীকার করায় ওই যুবকের ওপর সন্দীপ চড়াও হন। তাঁকে মারতে মারতে বাড়ির সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই যুবক বিদেশে থাকতেন বলে জানিয়েছেন। ছেলেকে মারধর করা হচ্ছে দেখে বিজেপি সমর্থকের মা বাঁচাতে এলে তাঁরও পোষাক ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনার বৃহস্পতিবারই রাতেই আক্রান্ত বিজেপি সমর্থক তাঁর মাকে নিয়ে ভবানীপুর থানায় আসেন। সেখানে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা সন্দীপ সাউকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। লালবাজার সূত্রের খবর, ধৃত যুব তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার মারধর, ভয় দেখানো এবং শ্লীলতাহাানির ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্ত নেতা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

আক্রান্ত বিজেপি সমর্থকের মা জানান, “ছেলেকে যখন রাস্তায় ফেলে মারধর করা হচ্ছিল। তা দেখে আমি ছাড়াতে যাই। সন্দীপকে বললাম কেন আমার ছেলেকে এ ভাবে মারছ? ছেলে তো কোনও সাথে নেই পাঁচে নেই। তখন ও (সন্দীপ সাউ) আমার জামাটা ছিঁড়ে দিল। ছিঁড়ে দিয়ে বলল, এখান থেকে চলে যা। না হলে তোকে ধরে পেটাব।”

আক্রান্ত বিজেপি সমর্থক জানিয়েছে, “আমাকে এমন জোরে মেরেছে, আমার মাথা অবধি পুরো ধরে গেছে। আমি কিছু করিনি। আমি বিদেশে ছিলাম। আমার থেকে টাকা চাওয়া হয়েছিল। ফেরার পরে আমায় কাছ থেকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে টাকা চাওয়া হয়েছে।“

আক্রান্ত যুবকের বাবার বলেন, “আমার স্ত্রীর গায়ে হাত দিয়েছে। আমার স্ত্রীর জামা ছিঁড়ে দেয়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। আমার ছেলেকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়েছে। মাথার পিছনে চোট লেগেছে। মুখ দিয়ে নাক দিয়ে গলগল করে রক্ত বেরোয়। পাঁচটি সেলাই পড়েছে। আমি প্রতিবন্দী শারীরিক। আমি একটা সুবিচার চাই।”

এই ঘটনা নিয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, আমি ব্যক্তিগত ভাবে এই গোটা বিষয়টি খুটিয়ে দেখব। আজকে সরকার পরিবর্তন করার পরেও এই সাহসটা বা এই ঔদ্ধত্যটা হয় কী করে। একজন মা-কে মারা হয়েছে। তার শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। আমি দেখব যাতে এই অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি হয়।“


Share