Murder Case

সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, তিন বছর পর ছেলে-বৌমার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, প্রত্যক্ষদর্শী মায়ের সাক্ষ্যে সাজা ঘোষণা আদালতের

মামলায় নিহতের স্ত্রী সাবিত্রী কোলের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করা হলেও অভিযুক্ত দম্পতির দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, তারকেশ্বর
  • শেষ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ ১১:৩৫

হুগলির তারকেশ্বরে সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধ বাবাকে খুনের ঘটনায় ছেলে ও পুত্রবধূকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল চন্দননগর আদালত। প্রায় তিন বছর ধরে চলা মামলার শুনানি শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেছে। মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল নিহতের স্ত্রীর প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তারকেশ্বরের গৌরবাটি গ্রামের বাসিন্দা আদিত্য কোলে ২০২৩ সালের ৬ জুলাই রাতে খুন হন। অভিযোগ, সম্পত্তির লোভে তাঁর ছেলে অমিত কোলে ও পুত্রবধূ পূজা কোলে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। একই সঙ্গে বৃদ্ধা মা সাবিত্রী কোলেকেও খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সেদিন কোনও রকমে প্রাণে বেঁচে যান ৬৪ বছরের সাবিত্রী।

তদন্তে জানা যায়, ঘটনার রাতে খাবার খেয়ে রাত ১০টা নাগাদ দোতলার ঘরে শুতে যান আদিত্য। অন্য একটি ঘরে নাতনিকে নিয়ে ছিলেন সাবিত্রী। রাত প্রায় ১টা নাগাদ চিৎকার শুনে ঘর থেকে বেরোতে গেলে তিনি বুঝতে পারেন, বাইরে থেকে তাঁর ঘরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরে নাতির সাহায্যে দরজা খুলে স্বামীর ঘরে গিয়ে তিনি দেখেন, অমিত আদিত্যের বুকের উপর বসে রয়েছেন। তাঁর হাতে দস্তানা পরা ছিল। অভিযোগ, পুত্রবধূ পূজার উপস্থিতিতেই গলা টিপে হত্যা করা হয় আদিত্যকে।

সাবিত্রীর অভিযোগ, ঘটনার পর তাঁকেও খুনের চেষ্টা করা হয়। আতঙ্কে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরদিন তারকেশ্বর থানায় ছেলে ও বৌমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করে।

তদন্ত দ্রুত শেষ করে পুলিশ ঘটনার দু’মাসের মধ্যেই, সেপ্টেম্বর মাসে চার্জশিট জমা দেয়। চন্দননগর আদালতে মামলার শুনানির সময় মোট ১৯ জন সাক্ষীর নাম ছিল। তবে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সরকার পক্ষের আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, নিহতের স্ত্রী সাবিত্রী কোলের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

সরকারি কৌঁসুলি আদালতে এই ঘটনাকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ বলে উল্লেখ করে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেছিলেন। তবে অতিরিক্ত দায়রা বিচারক মানবেন্দ্র মোহন সরকারের পর্যবেক্ষণ, অপরাধের গুরুত্ব নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু অভিযুক্ত দম্পতির দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান রয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনা করেই তাঁদের মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর সরকারি আইনজীবী বলেন, “নিজের বাবাকে খুন করার সময় অভিযুক্ত প্রমাণ নষ্ট করতে হাতে দস্তানা পরেছিল। এই ঘটনা সমাজের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যদিও আমরা সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেছিলাম, আদালত সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”


Share