Suvendu Adhikari

‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’, অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ওপর ‘থ্রি-ডি’ প্রয়োগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

সরকার গঠন হওয়ার পরে আপামর দেশবাসীর স্বার্থে এই ঘোষণা যে হবে তা-ও ঘনিষ্ঠ মহলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ বলেছিলেন। রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকার গঠন হওয়ার পরেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ১০:৫১

‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’। এই নীতি যে নেওয়া হবে তা আগেই জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। বিজেপি বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। সীমান্তকে সুরক্ষিত করার পাশাপাশি যে সমস্ত অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা এখনও এ রাজ‍্যে এখনও রয়েছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, গত ২০২৫ সালের ১৪ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক একটি নির্দেশিকা পাঠিয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, যে সব অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এ রাজ‍্যে রয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। তারপরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে হস্তান্তর করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এক বছর আগে এই আইন করা হয়েছিল। রাজ‍্যের আগের সরকার যেমন নারগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করেছে, অন‍্য দিকে ভারত সরকারের এই আইন তাঁরা কাজে লাগায়নি। আজ থেকে এই আইন আমরা রাজ‍্যে কার্যকর করলাম।”

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা যদি ধর্মীয় উৎপীড়নের শিকার হয়ে এ দেশে চলে আসে তাহলে তাঁরা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন। তার জন‍্য মোট সাতটি জনগোষ্ঠীর জন‍্য এই আইন করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী জানান, যেসমস্ত মানুষ এই আইন অনুযায়ী ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এ রাজ‍্যে এসেছেন, তাঁদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারবে না। 

মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাঁরা এই আইনের মধ্যে পড়ছে না, তাঁরা সম্পূর্ণ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাঁর কথায়, বাংলাদেশের মুসললমান, যারা অবৈধ ভাবে এ রাজ‍্যে রয়েছে, তারা এই আইনের মধ্যে পড়বে না। তাদেরকে রাজ্য পুলিশ অবিলম্বে গ্রেফতার করবে। আটক করবে। তারপরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে হস্তান্তর করে দেবে। বিএসএফ বিজিবির সাথে কথা বলে বাংলাদেশে পাঠানোর ব‍্যবস্থা করবে। 

বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, “‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’।” এর পরেই রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, “সীমান্ত লাগোয়া সমস্ত থানাগুলিকে এই কাজ করতে হবে। দেশের স্বার্থে, পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থেই এই কাজ তাঁরা করবেন। আজ থেকেই আইন লাগু হল।”

বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের এ রাজ‍্য থেকে যে থাকতে দেওয়া হবে না তা বারবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ একাধিক নেতারা বলেছিলেন। বিজেপির ঘোষণাপত্রেও এটাই সবার প্রথমেই ছিল। তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বারবার এমন স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে সরব হয়েছিলেন।

এ দিনও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অপরাধ লক্ষ‍্য করা গিয়েছে। বলেন, “লাভ জেহাদ, ল‍্যান্ড জেহাদ, বলপূর্বক ধর্মান্তরকরণ-সহ একাধিক ঘটনা রয়েছে। নারী এবং শিশু নিরাপত্তার বিষয়ে যে অসামাজিক কাজে যে বৃদ্ধি লক্ষ‍্য করা গিয়েছে। বিভিন্ন প্রদেশ এবং রাজ্য থেকে গ্রেফতার হওয়া ধৃতদের একটা বড় অংশই বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী।”

সরকার গঠন হওয়ার পরে আপামর দেশবাসীর স্বার্থে এই ঘোষণা যে হবে তা-ও ঘনিষ্ঠ মহলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ বলেছিলেন। রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকার গঠন হওয়ার পরেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।


Share