Chandra Nath Rath

চন্দ্রনাথ হত‍্যাকান্ডে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা দেবরাজ থাকতে পারে, বিস্ফোরক দাবি বিজেপি বিধায়ক অর্জুনের

দেবরাজ চক্রবর্তী রাজনৈতিক মহলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। বিধাননগর তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার তৃণমূলের একজন দাপুটে নেতা হিসাবেই তিনি পরিচিত। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিধাননগর পুরনিগমের ভোটে দ্বিতীয় বার নির্বাচিত হয়ে মেয়র পারিষদ হন দেবরাজ।

(বাঁ দিক থেকে) তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী এবং বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিংহ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ০৭:৪৬

শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ককে গুলি করে হত‍্যাকান্ডের তদন্ত করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, সিবিআই। সেই হত‍্যকান্ডের নেপথ্যে থাকতে পারে উত্তর ২৪ পরগনার তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সীর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর। বুধবার এমনটাই দাবি করলেন নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিংহ।

বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিংহ দাবি করেন, শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় দেবরাজ চক্রবর্তী যুক্ত থাকতে পারে। তাঁর কথায়, দেবরাজের সমাজবিরোধীদের সাথে যোগাযোগ রাখার অভ্যাস রয়েছে। বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিংহের দাবি, এই ধরনের লোকজনদের জেলে ঢোকানোর দরকার। এদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হত‍্যাকান্ড সম্পর্কিত অনেক তথ্য পুলিশ পাবে। 

অর্জুন বলেন, “দেবরাজ চক্রবর্তী, সুমিত রায় (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় খাস লোক।এদের দুষ্কৃতীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার খুব সখ রয়েছে। দেবরাজ চক্রবর্তীর স্ত্রী (অদিতি মুন্সী) খুব ঘনঘন বিদেশে যেতো। কারণ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশে পাচার করতে যেত সে।”

গতকাল রাতে জানা যায়, উত্তর ২৪ পরগনার যুব তৃণমূলের সভাপতি দেবরাজ চক্রবর্তীকে পুলিশ আটক করে। কিন্তু এই বিষয়ে নিয়ে পুলিশ কিছু এখনও জানায়নি। কোন মামলায় তাঁকে ডেকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তা নিয়েও স্পষ্ট নয়। তবে দেবরাজের বিরুদ্ধে ওই এলাকায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় পুলিশ দেবরাজ চক্রবর্তীকে সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। এমনকী, নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও গত ২০২৩ সালে সিবিআই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বিজেপির দাবি, দেবরাজ ওই এলাকার তোলাবাজির সিন্ডিকেট চালায়।

দেবরাজ বর্তমানে বিধাননগরের তৃণমূল কাউন্সিলর এবং মেয়র পারিষদ। দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত তিনি। এক সময় প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুর আপ্তসহায়ক ছিলেন। ২০১৩ সালে বিধাননগর পুরসভায় একটি উপনির্বাচন হয়েছিল। সূত্রের খবর, তাতে টিকিট চেয়ে পূর্ণেন্দুর কাছে দরবার করেছিলেন দেবরাজ। তৃণমূল তাঁকে তখন টিকিট দেয়নি। পরে ২০১৫ সালের নির্বাচনের সময়ে ফের ভোটে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন দেবরাজ। টিকিট না পেয়ে দল ছেড়ে দেন। তারপরে কংগ্রেসের হাত ধরেন। পূর্ণেন্দুর আপ্তসহায়কের কাজ ছেড়ে দেন। 

শোনা যায়, বিধাননগরে ভোটে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে তৎকালীন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু ও তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনের সঙ্গে দেবরাজের বিবাদ চরমে উঠেছিল। জানা যায়, সেই বিবাদের জেরেই তৃণমূলের টিকিট পাননি তিনি। বিধাননগর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। সেই সময়ে ভোটের দিন দেবরাজকে বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। বন্দি অবস্থায় তাঁকে ভোটে লড়তে হয়েছিল। ভোটে জিতে বিধাননগরের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। জামিনে মুক্ত হয়ে কাউন্সিলর হিসাবে শপথ নেন। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই কংগ্রেস ছেড়ে ফের তৃণমূলে যোগ দেন দেবরাজ। 

দেবরাজ চক্রবর্তী রাজনৈতিক মহলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। বিধাননগর তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার তৃণমূলের একজন দাপুটে নেতা হিসাবেই তিনি পরিচিত। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিধাননগর পুরনিগমের ভোটে দ্বিতীয় বার নির্বাচিত হয়ে মেয়র পারিষদ হন দেবরাজ।

চন্দ্রনাথ রথকে খুনের পরে তাঁর মা ঘটনার নেপথ্যে তৃণমূল রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথ জানিয়েছিলেন, তাঁর ছেলে শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে কাজ করত। কোনও রাজনীতি করত না। বিজেপি জিতে যাওয়ায় তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তাই দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন। এ বার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিংহের এমন মন্তব্যের পরে চন্দ্রনাথ হত‍্যাকান্ডে তৃণমূল যোগ আরও জোরালো হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


Share