TMC Leader Arrest

৫০ লক্ষ টাকার তোলা দাবি, প্রোমোটারকে মারধরের অভিযোগে বাগুইআটিতে গ্রেফতার তৃণমূল ঘনিষ্ঠ অমিত চক্রবর্তী

মঙ্গলবার রাতে প্রোমোটারকে মারধর ও তোলাবাজির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে বাগুইআটি থানার পুলিশ।

(বাঁ দিক থেকে) ধৃত অমিত চক্রবর্তী এবং দেবরাজ চক্রবর্তী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ০৩:১১

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার, তোলাবাজি, হুমকি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন। একের পর এক অভিযানে গ্রেফতার হচ্ছেন তৃণমূলের একাধিক নেতা, কর্মী ও তাঁদের ঘনিষ্ঠরা। এবার সেই তালিকায় নাম জুড়ল অমিত চক্রবর্তী ওরফে ননীর। মঙ্গলবার রাতে প্রোমোটারকে মারধর ও তোলাবাজির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে বাগুইআটি থানার পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত অমিত চক্রবর্তী বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলার তথা এমআইসি দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। দেবরাজ চক্রবর্তী রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী। একই মামলায় এর আগেই গ্রেফতার হয়েছেন বিধাননগর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার সমরেশ চক্রবর্তী।

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে। অভিযোগ, রঘুনাথপুরের বাসিন্দা ও প্রোমোটার কিশোর হালদারের কাছে ৫০ লক্ষ টাকা তোলা দাবি করেন অমিত চক্রবর্তী। কিশোরবাবু প্রথমে তিন লক্ষ টাকা দিলেও বাকি টাকা দিতে অস্বীকার করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এরপর বন্দুকের বাট ও লোহার রড দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় পরে তিনি বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

তদন্তে নেমে প্রথমে সমরেশ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগেও, ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর এক প্রোমোটারকে মারধর ও মোটা টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই সময় তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান এবং পরে আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিন নেন। তবে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নতুন করে এফআইআর দায়ের হতেই সক্রিয় হয় পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় সমরেশ ওরফে চিন্টুকে। আর এ বার একই মামলায় ধরা পড়লেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অমিত চক্রবর্তী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।


Share