Supreme Court

জাতিগণনা ঠেকাতে আর্জি খারিজ শীর্ষ আদালতে, কেন্দ্রের নীতিগত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ নয়, জানাল সুপ্রিম কোর্ট

শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, জাতিগত জনগণনা করা হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। এই বিষয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না।

সুপ্রিম কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ০৭:০৮

দেশে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রকৃত সংখ্যা জানা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। সমাজকল্যাণমূলক নীতি গ্রহণ এবং উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের স্বার্থেই এই তথ্য প্রয়োজন বলে জানিয়ে জাতিগত জনগণনার বিরোধিতায় দায়ের হওয়া একটি আবেদন খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত।

দেশের আসন্ন জনগণনার সঙ্গে জাতিগত গণনা না করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা পড়েছিল। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, জাতিগত জনগণনা করা হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। এই বিষয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না।

প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণে জানান, সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণির উন্নয়নের জন্য সরকারের কাছে সঠিক তথ্য থাকা প্রয়োজন। তবে জাতিগত জনগণনা হবে কি হবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সরকারেরই।

মামলাকারীর তরফে দাবি করা হয়েছিল, জাতিগত জনগণনার তথ্য বিভিন্ন সংস্থা অপব্যবহার করতে পারে। এর ফলে সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়। সেই প্রসঙ্গে আদালত জানায়, ২০২৭ সালের জনগণনায় জাতিগত গণনা অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা নির্ধারণ করা আদালতের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। ফলে এ বিষয়ে সাংবিধানিক পর্যালোচনারও প্রশ্ন ওঠে না।

জাতিগত জনগণনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক চলছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার বাস্তব চিত্র জানতে জাতিভিত্তিক জনগণনা জরুরি। পাশাপাশি, যেসব জাতি এখনও সংরক্ষণের আওতার বাইরে রয়েছে, জনগণনার মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়াও সম্ভব হতে পারে বলে মত তাদের।

প্রথমদিকে কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে অনীহা দেখালেও পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানায়, আগামী জনশুমারির সঙ্গে জাতিগত গণনাও করা হবে।


Share