Accident

এক বিকেলের ঝড়- বৃষ্টিতে লন্ডভন্ড মুর্শিদাবাদ, বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ছয় জন

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শিমুরালি এলাকায় ঝড়ের জেরে ওভারহেড তার ছিঁড়ে যায়। রানাঘাট লাইনে ট্রেন চলাচলে বড়সড় সমস্যা দেখা দেয়। একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়ে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ০৫:৩৩

এখন সময়টা কালবৈশাখীর। সোমবার বিকালে মুর্শিদাবাদ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়। তার ফলেই বিপত্তি। প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন মোট ছয় জন। বিকালে আচমকাই জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়। শুরু হয় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও ঘন ঘন বজ্রপাত। পাশাপাশি শিয়ালদহ-রানাঘাট শাখাতেও ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শিমুরালি এলাকায় ঝড়ের জেরে ওভারহেড তার ছিঁড়ে যায়। রানাঘাট লাইনে ট্রেন চলাচলে বড়সড় সমস্যা দেখা দেয়। একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়ে। পরে আপ লাইনে ধীরে ধীরে পরিষেবা স্বাভাবিক হলেও ডাউন লাইনে দীর্ঘক্ষণ ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ শুরু করে রেল কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকা। ভরতপুরে মাঠের পাশ থেকে বিলকিস বেগম (৪৬)।গবাদিপশু আনতে গিয়েছিলেন। বজ্রাঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, বাড়ি ফেরার সময় আচমকাই বাজ পড়ে তিনি মাঠেই অচেতন হয়ে পড়ে যান। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নবগ্রামের দাসপাড়া এলাকায় চাষের কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারান ঝাড়খণ্ডের পাকুড়ের বাসিন্দা রাজেশ হাঁসদা (২৭)। মাঠে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

হরিহরপাড়ার খিদিরপুর বালুর মাঠপাড়া এলাকাতেও মাঠে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয় রায়েচ সেখ (৬১)-এর। ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দু’জন। নওদার ঝাউবনা এলাকায় পাট খেতে নিড়ানির কাজ করছিলেন বিশ্বনাথ মণ্ডল (৭৪)। সেই সময় বজ্রাঘাতে গুরুতর জখম হন তিনি। আমতলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এছাড়াও কান্দি থানার হিজল রানিপুর গ্রামের শফিকুল শেখ (২০) এবং বালুট গ্রামের নব কুমার মণ্ডল (৬৫)-এরও বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে।

ঝড়-বৃষ্টির দাপটে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। জিয়াগঞ্জ ফুলতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে সদরঘাট যাওয়ার মূল রাস্তায় উপড়ে পড়ে কয়েকশো বছরের পুরনো একটি বিশাল গাছ। গাছ চাপা পড়ে রাস্তার ধারের একাধিক দোকান ও একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার কর্মীরা। জেসিবি ও মোটরচালিত কাটিং মেশিন এনে গাছ কেটে সরানোর কাজ শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় রাস্তা পরিষ্কার করে স্বাভাবিক করা হয় যান চলাচল।


Share