Manoj Agarwal

প্রশাসনিক খরচ কমাতে সাত দফা নির্দেশ নবান্নের! বিভাগীয় প্রধান ও জেলাশাসকদের ডেডলাইন মুখ‍্যসচিবের

সরকারি খরচ বাঁচাতে সাত দফা নির্দেশিকা জারি করেছেন রাজ‍্যের মুখ্যসচিব। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধান ও জেলাশাসকেরা আগামী ১ জুলাই থেকে এই সংক্রান্ত মাসিক রিপোর্ট মুখ্যসচিবের দফতরে পাঠাবে।

রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ১২:৩৬

প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার দেনা মাথায় নিয়ে তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সুশাসনের লক্ষ্যে ও সরকারি কাজে দক্ষতা বজায় রেখে রাজ্যবাসীকে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে নতুন নিয়মাবলী তৈরি করল নবান্ন। আর্থিক সাশ্রয়, সরকারি সম্পদ বা পরিকাঠামোর যথোপযুক্ত ব‍্যবহার এবং কেন্দ্রীয় সরকারি রীতিনীতি মেনে সরকারি ব্যবস্থাপনাকে একটি নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে বেঁধে সব জেলাশাসক ও রাজ্য সরকারি বিভাগীয় প্রধানদের সাত দফা নির্দেশাবলী পাঠালেন মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা মেনে রাজ্য সরকারি কাজে ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অক্ষুন্ন রেখে যতটা সম্ভব খরচ কমিয়ে উপযুক্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য সাত দফা নির্দেশাবলীও দিয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল। নবান্নের নির্দেশ, সরকারি কাজ এবং বৈঠকের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করতে হবে। সেক্ষেত্রে ভিডিয়ো কনফারেন্স বা ভার্চুয়াল বৈঠকের ব্যবস্থা করতে হবে। 

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন মতো দক্ষতা বজায় রেখে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ব্যবস্থা করা হতে পারে। যথেচ্ছ ভাবে সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে যাতায়াত কমানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে পুলকার পদ্ধতি চালু করার পাশাপাশি  ব্যাটারি চালিত গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি দফতরগুলি এবং প্রতিষ্ঠানগুলিতে বৈদ্যুতিক অপচয় বন্ধ করতে হবে। কাগজের ব্যবহার কমাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে পেপারলেস সরকারি কাজ ত্বরান্বিত করে ই-অফিস পদ্ধতির গুরুত্ব বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশের মাটিতে তৈরি করা জিনিসের ব্যবহার বাড়ানো এবং 'স্বদেশী' কালচারকে উৎসাহিত করতে নবান্ন নির্দেশ দিয়েছে। সুসংহত উপায়ে খরচ কমানোর অভ্যাস তৈরি করা, বর্জ্য কমিয়ে রিসাইক্লিং পদ্ধতিকে উৎসাহিত করা, সরকারি পরিকাঠামো এবং প্রাকৃতিক সম্পদের যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, স্বাস্থ্যকর এবং সুসংহত জীবনযাপনের জন্য স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত ভোজ্য তেলের ব্যবহার বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব চাষে উৎসাহিত করতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এই নির্দেশাবলীকে মান্যতা দিতে হবে। রাজ্য সরকারের প্রতিটি সরকারি বিভাগ এবং প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের জন্য তাৎক্ষণিক, মধ্যবর্তী এবং দীর্ঘমেয়াদী ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরির নির্দেশ মুখ্যসচিব দিয়েছেন। নবান্নের নির্দেশ, আগামী ২২ মে-র মধ্যে মুখ্যসচিবের দফতরে সমস্ত ‘অ্যাকশন প্ল্যান’-এর রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকায় এ-ও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধান ও জেলাশাসকেরা আগামী ১ জুলাই থেকে এই সংক্রান্ত মাসিক রিপোর্ট মুখ্যসচিবের দফতরে পাঠাবে। জরুরি ভিত্তিতে অগ্রাধিকারের মাধ্যমে সমস্ত অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, প্রধান সচিব, বিভাগীয় সচিব এবং জেলাশাসকদের এই ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরির জন্য অধস্তন বিভাগ বা কর্মীদের নিয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল।


Share