Road Accident

বালিতে অনলাইন খাবার সরবরাহ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু তরুণের, ক্ষোভ পরিবার ও সহকর্মীদের

মৃত জয়দীপ হালদার বেলুড় লালবাবা কলেজের বিকম শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। সংসারের হাল ধরতে পড়াশোনার পাশাপাশি দিনে কেকের দোকানে ও রাতে ফুড ডেলিভারির কাজ করতেন তিনি।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া
  • শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ০৫:৩৬

 পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক অনলাইন খাবার সরবরাহকারী সংস্থার কর্মীর। রবিবার গভীর রাতে হাওড়ার বালিতে ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতের নাম জয়দীপ হালদার (২১)। তিনি বেলুড় লালবাবা কলেজের বাণিজ্য বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পুলিশ ঘাতক ডাম্পারের চালক ও দুই খালাসিকে আটক করেছে। পাশাপাশি ডাম্পারটিকেও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে একটি মোমো আউটলেট থেকে জয়দীপ খাবার সংগ্রহ করে। সেটি তিনি গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় বেপরোয়া গতির একটি ডাম্পার তাঁকে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জিটি রোডে দিনরাত ভারী মালবাহী গাড়ির দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। বড় ট্রেলার, ডাম্পার ও সিমেন্ট মিক্সার নিয়মিত যাতায়াত করায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ডেলিভারি কর্মীদেরও প্রাণের ঝুঁকি বাড়ছে। বছরখানেক আগেও বালির বাদামতলায় একই ধরনের দুর্ঘটনায় ট্যাক্সিচালক-সহ এক তরুণ ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যু হয়েছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।

জয়দীপের পরিবার জানিয়েছে, তাদের অত্যন্ত অভাবের সংসার ছিল। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি একাধিক কাজ জয়দীপকে করতে হত। সকালে একটি নামী কেক সংস্থার আউটলেটে কাজ করতেন। কলেজের পড়া শেষ করে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত খাবার সরবরাহের কাজ করতেন। তাঁর বাবা পঞ্চানন হালদার পেশায় ভ্যানরিকশা চালক। ঘুসুড়ির শিবগোপাল ব্যানার্জি লেনের ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। ছোট অভাবের সংসারে একমাত্র ছেলেকে মানুষ করার স্বপ্ন দেখেছিলেন পরিবার।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত ১১টা নাগাদ জয়দীপ বাড়িতে ফোন করেছিলেন। মাকে জানান, আর একটি ডেলিভারি করেই তিনি ফিরবেন। কিন্তু রাত বাড়লেও জয়দীপ বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা ফোন করতে শুরু করেন। পরে থানা থেকে দুর্ঘটনার খবর জানানো হয়।

ঘটনার পর রাতেই বালি থানায় জড়ো হন জয়দীপের সহকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার পৌঁছে দেওয়ার চাপের মধ্যেই ডেলিভারি কর্মীদের কাজ করতে হয়। সবসময় গ্রাহকের নেগেটিভ রেটিং বা অভিযোগের ভয়ও থাকে। অথচ সংস্থার তরফে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বা সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই বলেই তাঁর দাবি করেন। এমনকী, দুর্ঘটনার পরও সংস্থার পক্ষ থেকে পরিবারের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের প্রশ্ন উঠেছে অনলাইন ডেলিভারি পরিষেবার কাজের পরিবেশ ও গিগ ওয়ার্কারদের নিরাপত্তা নিয়ে। দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার প্রতিযোগিতায় কর্মীদের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলেই মত বিভিন্ন মহলের। পাশাপাশি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভারী যান চলাচল নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক নব দত্ত বলেন, গিগ ওয়ার্কারদের সুরক্ষা ও অধিকার নিয়ে এখনও পর্যন্ত সুস্পষ্ট সরকারি নীতি নেই। আন্তর্জাতিক স্তরেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। খুব শীঘ্রই নতুন রাজ্য সরকারের কাছে এ বিষয়ে প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


Share