Suvendu Adhikari

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করবেন শুভেন্দু অধিকারী, মঞ্চে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, যাবেন মহাকরণে

পুলিশ সূত্রের খবর, নিরাপত্তার খাতিরে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে কমবেশি ৩৫টি সেক্টরে ভাগ করেছে পুলিশ। কয়েকটি সেক্টর নিয়ে তৈরি হবে একটি ব্লক। শুধু সেখানকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন আইপিএস পদমর্যাদার একজন অফিসার।

আজ ব্রিগেডে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ১০:১০

শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথবাক্য পাঠ করবেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি। মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। পাশাপাশি ২৩টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন। সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠান হবে। মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে ১১টা থেকে। বেলা ১২টায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা হবে। তার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্ন নয়, যাবেন মহাকরণে। সেখানে তাঁর জন‍্য ঘর তৈরি রয়েছে।

এ বার আর তিনি বিরোধী দলনেতা নন, রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় প্রবেশ করবেন। তাঁর বসার ব্যবস্থাও মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো ঘরে। নতুন সরকারের শপথগ্রহণের আগে বিধানসভায় তোড়জোড় শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘর নতুন করে সাজানোর পাশাপাশি জিনিসপত্র গোছগাছের কাজ চলছে। জানা গিয়েছে, প্রায় চার বছর পর খোলা হয় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘর। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে ওই ঘরটি তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। শুক্রবার তালা খুলে ঘরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। তাঁর নামফলক সরানো হয়েছে। বিধানসভা সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সচিবালয়ের কর্মীরা ওই ঘরটিতে বসবেন। একে একে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামফলক সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন সরকারি মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন ডেপুটি চিফ গভর্নমেন্ট হুইপ দেবাশিস কুমার, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নামফলক খোলা হয়ে গিয়েছে। বিধানসভা সূত্রে খবর, সোমবার থেকে বিধানসভায় নির্দিষ্ট ঘরে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

গত ২০১৩ সালে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর গঙ্গার ও পারে হাওড়ায় নবান্নে সরিয়ে নিয়ে যান তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি জানিয়েছিলেন, বছর দশেকের মধ্যে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সংস্কারের কাজ শেষ হলে আবার সচিবালয় ফিরবে সেখানে। প্রতিশ্রুতি দিলেও কিন্তু কিছু দিন আগেও দেখা যায়, সংস্কারের কাজ ৫০ শতাংশও হয়নি। অন্য দিকে, বিজেপি আগেই জানিয়েছিল নবান্ন নয়, তাঁদের নতুন সরকার মহাকরণ থেকেই কাজ করবে।

জানা গিয়েছে, মহাকরণের তিন তলায় নতুন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য একটি কক্ষ তৈরির কাজ চলছে। ২০১৩ সালে রাজ্যের প্রধান সচিবালয় নবান্নে তুলে নিয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত রাইটার্সের দোতলার ঘরে বসতেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতে ওই ঘরেই বসেছেন জ্যোতি বসু থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। জানা যাচ্ছে, মহাকরণের ভিভিআইপি ব্লকের তিন তলার একটি অংশের কাজ অনেকটাই শেষ হয়ে গিয়েছে। দোতলার যে ঘরে আগের মুখ্যমন্ত্রীরা বসতেন, তিন তলায় ঠিক তার উপরের ঘরটি তৈরি করা হচ্ছে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য। পূর্ত দফতরের ঠিকাদার কর্মীরা এখনও কাজ করে যাচ্ছেন।

বিজেপি সূত্রে খবর, এ দিন সকালে শপথগ্রহণ শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাকরণে যাবেন। তিন তলার ঘরটিতে ‘প্রতীকী’ ভাবে বসবেন। বার্তা দেবেন, আগামী পাঁচ বছর সেখান থেকেই পরিচালিত হবে রাজ্যের সরকার। তবে সংস্কারের কাজ শেষ না-হওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর আপাতত বসার ব্যবস্থা হয়েছে বিধানসভায়। সচিবালয় আলাদা করে তৈরি হচ্ছে। প্রথমে ঠিক হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী বসবেন অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী এবং অন্যান্য বেশ কিছু জিনিস মাথায় রেখে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর যে ঘরটি রয়েছে, সেখানেই বসবেন শুভেন্দু অধিকারী।

ব্রিগেড প‍্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। সকাল ১০টা থেকে এই অনুষ্ঠান শুরু হবে। মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে ১১টা থেকে। ১২টায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে। ব্রিগেডে শুভেন্দুদের শপথগ্রহণে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তা ছাড়া বিভিন্ন রাজ্যের ২৩ জন মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তাও কড়াকড়ি করা হয়েছে। ব্রিগেড এবং সংলগ্ন ময়দান এলাকায় নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয়কুমার নন্দ। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার এবং ডেপুটি কমিশনারেরা থাকবেন।

পুলিশ সূত্রের খবর, নিরাপত্তার খাতিরে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে কমবেশি ৩৫টি সেক্টরে ভাগ করেছে পুলিশ। কয়েকটি সেক্টর নিয়ে তৈরি হবে একটি ব্লক। শুধু সেখানকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন আইপিএস পদমর্যাদার একজন অফিসার। নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্বে থাকবেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার। মাঠে প্রথম দিকের কয়েকটি ব্লকে থাকবেন ভিভিআইপি-রা। প্রায় ৪০ জন ভিভিআইপি থাকবেন। ব্রিগেডে আসা প্রত্যেকের চেকিং হবে। ভিভিআইপি এবং নিমন্ত্রিত ছাড়াও কেউ অনুষ্ঠান দেখতে এলেও তাঁকে পরীক্ষানিরীক্ষা করেই তবে ছাড়া হবে। ছাতা, ব্যাগ, জলের বোতল কিছু নিয়ে যাওয়া যাবে না। পুলিশ সূত্রে খবর, কেউ এই সব নিয়ে গেলে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। তাই ছাতা, ব্যাগ না-নিয়ে যাওয়াই ভাল। মাঠ এবং আশপাশে ঘিরে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ব্রিগেডের আশেপাশের বহুতল থেকে নজরদারি চালানো হবে। ভিভিআইপিদের নিরাপত্তায় নজরদারিতে ব্যবহৃত হবে ড্রোন।

শনিবার শহরে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ভোর ৪টে থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মালবাহী গাড়ির যাতায়াত বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবা সংক্রান্ত ছাড় রয়েছে। যেমন এলপিজি সিলিন্ডারবাহী মালগাড়ি, সিএনজি, পেট্রোলিয়াম, তেল, লুব্রিক্যান্ট, অক্সিজেন, শাক-সব্জি, ওষুধপত্র, মাছ, ফল, দুধভর্তি গাড়ি চলাচল করতে পারে। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের পার্শ্বস্থ রাস্তা, যেমন, এজেসি বোস রোডের কিছু অংশ থেকে হেস্টিংস ক্রসিং, ক্যাথিড্রাল রোড, খিদিরপুর রোড, হসপিটাল রোড, কুইনস্ওয়ে, লাভার্স লেন ইত্যাদি রাস্তার ধারে গাড়ি রাখা যাবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী, শনিবার শহরে যান চলাচলের ক্ষেত্রে আরও কিছু নিয়ন্ত্রণ আনা হতে পারে।


Share