Indian Immigration

নেই বৈধ কোনও কাগজপত্র, ভারতে প্রবেশের অনুমতি পেল না আকাশ, জিজ্ঞাসাবাদের পরে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হল

যুবক ভিডিয়োতে বলছেন, “আমি বলেছিলাম আমার নিউ জিল্যান্ডের ভিসা নেই। তবুও জোর করে আমাকে মালয়েশিয়ার বিমানে তুলে দেওয়া হয়। এখানে ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গেও কথা বলেছি।

আকাশ নামে এক যুবককে নিউ জিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ১১:০৬

নিজেকে ভারতীয় বলে দাবি করলেও কোনও বৈধ নথি তিনি দেখাতে পারেননি। তাই দিল্লিতে যুবকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় নিউ জিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে। গত দু’সপ্তাহ ধরে ওই যুবক কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে রয়েছেন।

যুবক নিজেকে আকাশ বলে পরিচয় দিয়েছে। তিনি পঞ্জাবের জলন্ধরের বাসিন্দা বলে দাবি করেন। গত মাসের ২৩ এপ্রিল তিনি বিমানে চেপে ২৪ এপ্রিল দিল্লিতে পৌঁছোন। পৌঁছোনোর পর ভারতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাঁর কাছে থাকা পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে। যা সম্ভবত নিউজিল্যান্ড সরকার আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য দিয়ে থাকে। সেই পরিচয়পত্র দেখিয়েই প্রবেশ করার চেষ্টা করলে দেশ তা মানতে অস্বীকার করে।

এরপর তাঁকে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স-এর একটি অকল্যান্ডগামী বিমানে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু কুয়ালালামপুরে নামেন। সেখানে ট্রানজিটের সময় তিনি আটকে পড়েন। কারণ ভারত বা নিউ জিল্যান্ড কোনও দেশই তাঁকে গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। সূত্রের খবর, আকাশ আগে ভারত থেকে পালিয়ে নিউ জিল্যান্ডে আশ্রয় চেয়েছিলেন। সেখানে নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা নাকি জানিয়েছিলেন। যদিও তিনি নিউ জিল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক ভাবে শরণার্থী মর্যাদা পেয়েছিলেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

একটি সূত্র জানিয়েছে, “তিনি নিউজিল্যান্ড সরকারের দেওয়া একটি ‘আইডেন্টিটি সার্টিফিকেট’ নিয়ে ভারতে প্রবেশ করার চেষ্টা করছিলেন। যখন তাঁর ভারতীয় পাসপোর্ট দেখাতে বলা হয়, তখন তিনি জানান, সেটি হারিয়ে গেছে। বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়া কাউকে ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া যায় না।”

নিউজিল্যান্ডের ‘সার্টিফিকেট অব আইডেন্টিটি’ হল একটি ভ্রমণ নথি। যা অনাগরিকদের দেওয়া হয়ে থাকে। যারা নিজেদের দেশের পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারেন না তাঁদেরকে এই পরিচয়পত্র দেওয়া হয়ে থাকে। নিউ জিল্যান্ডের অভিবাসন ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই নথি মূলত শরণার্থী, রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি অথবা যাঁরা জাতীয় পাসপোর্ট পেতে অক্ষম, তাঁদের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত দু’বছরের জন্য বৈধ থাকে। এই নথি থাকা মানেই আবেদনকারীর নাগরিকত্ব বদলে যায় না।

ওই সূত্রের আরও জানিয়েছে, দিল্লিতে পৌঁছোনোর সময় আকাশ জানাননি যে তিনি নিউ জিল্যান্ডে আশ্রয় চেয়েছেন বা আশ্রয় চাওয়ার পরে পেয়েছেন কি না। “তাঁর কাছে বৈধ পাসপোর্ট না থাকায় তাঁকে ফেরত পাঠানো হয়। সঠিক নথি ছাড়া কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে তিনি সত্যিই ভারতীয় নাগরিক?”— এমনই জানিয়েছেন এক কর্তা।

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে আকাশ নামে ওই যুবক একটি ভিডিয়ো করেন। সমাজমাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ার পরেই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। সেখানে তিনি বলেন, তিনি আট দিন ধরে বিমানবন্দরে আটকে রয়েছেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান। তাঁর দাবি, তাঁর কাছে টাকা, খাবার, জামাকাপড় বা কম্বল কিছুই নেই।

ভিডিয়োতে আকাশ বলেন, “আমি স্থায়ী ভাবে ভারতে ফিরছিলাম। নিউ জিল্যান্ডে আমার কাগজপত্রের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। কিছুই ঠিকঠাক চলছিল না। বাবাও অসুস্থ ছিলেন। তাই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিই। ২৩ এপ্রিল বিমানে উঠি, ২৪ এপ্রিল পৌঁছোই। আমার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই নিউ জিল্যান্ড থেকে একটি ট্রাভেল ডকুমেন্ট (ভ্রমণ নথি) তৈরি করে ফিরছিলাম। কিন্তু দিল্লিতে আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।” তাঁর অভিযোগ, দিল্লি বিমানবন্দরে দু’দিন ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরিচয় যাচাইয়ের পর ফেরত পাঠানো হয়েছে। তিনি কর্তৃপক্ষকে এ-ও জানিয়েছিলেন যে নিউজিল্যান্ডে ফেরার মতো বৈধ ভিসাও তাঁর কাছে নেই।

যুবক ভিডিয়োতে বলছেন, “আমি বলেছিলাম আমার নিউ জিল্যান্ডের ভিসা নেই। তবুও জোর করে আমাকে মালয়েশিয়ার বিমানে তুলে দেওয়া হয়। এখানে ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা বলেছে নিউজিল্যান্ডে গিয়ে কাগজপত্র ঠিক করতে। আমি কী করব বুঝতে পারছি না। আমি মেঝেতে শুয়ে আছি, ঠিকমতো খেতেও পারিনি।”

তবে নিরাপত্তা মহলের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, সমস্যার সমাধানের পথ রয়েছে। মালয়েশিয়ায় ভারতীয় হাইকমিশন থেকে যদি আকাশ নতুন ভারতীয় পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারেন, তাহলে তাঁকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। সূত্রের এ-ও দাবি, সেই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। খুব শীঘ্রই আকাশ ভারতে ফিরতে পারেন।


Share