Post Poll Violence

তারকেশ্বরে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ, দু’পক্ষের সংঘর্ষ সামল দিতে গিয়ে জখম তারকেশ্বর থানার ওসি

বিজেপি নেতা সুজয় চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, এলাকার বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করতেই তাঁরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছিলেন। কিন্তু তৃণমূল কর্মীরাই তাঁদের উপর হামলা চালিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তারকেশ্বর থানার সামনে বিক্ষোভ
নিজস্ব সংবাদদাতা, তারকেশ্বর
  • শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ০৩:৩৫

শনিবার ২৫ শে বৈশাখ রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল। এ দিনই অনুষ্ঠানের পর হুগলির তারকেশ্বরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। শনিবার রাতে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড রীতিমতো অশান্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তারকেশ্বর থানার ওসি সুব্রত সাধু গুরুতর আহত হন। তাঁকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় বিজেপির কর্মীরা জনসংযোগ করছিলেন। সেই সময় কয়েক জন তৃণমূল কর্মী তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এর পরেই আশেপাশ থেকে আরও দলবল জুটিয়ে লোক আনে বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি। এর এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। তা হাতাহাতিতে পরিণত হয়। যদিও তৃণমূলের দাবি, এলাকার তৃণমূল কর্মী পূজা সাউয়ের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বিজেপি। 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। সেই সময়েই ওসি সুব্রত সাধু গুরুতর আঘাত পান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ধস্তাধস্তির মধ্যেই তিনি জখম হন। মাটিতে পড়ে যান। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর পুলিশ পাঁচ জন বিজেপি কর্মীকে আটক করেছে বলে জানা গিয়েছে।

এই ঘটনার জেরে রাতেই তারকেশ্বর থানার সামনে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের দাবি, আটক কর্মীদের দ্রুত মুক্তি দিতে হবে। অন্য দিকে, বিজেপি নেতা সুজয় চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তাঁরা কোনও হামলা চালাতে যাননি। তাঁর কথায়, এলাকার বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করতেই তাঁরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছিলেন। কিন্তু তৃণমূল কর্মীরাই তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পাশাপাশি ওসি সুব্রত সাধুর বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিজেপি।

অন্য দিকে, তৃণমূলের তরফে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তারকেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক রামেন্দ্র সিংহ রায়ের দাবি, তৃণমূল কোনও অশান্তি করেনি। বরং বিজেপি কর্মীরাই এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল সমর্থকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছিল। নতুন করে যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায় তার জন্য এলাকায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।


Share