Suvendu Adhikari

'আমি সকলের মুখ্যমন্ত্রী' শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষ্যে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি পৌঁছে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, "আমি সকলের মুখ্যমন্ত্রী"। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়তী উপলক্ষ্যে কবিগুরুকে প্রণাম জানিয়েই মুখ্যমন্ত্রী নিজের যাত্রা শুরু করেন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ০৮:২৪

শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। স্বাধীনতার পরে এই প্রথম বিজেপি সরকার রাজ্য পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। এই সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিলেন শুভেন্দু। শপথগ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রবীন্দ্র জয়ন্তী উপলক্ষ্যে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে শ্রদ্ধা জানাতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে প্রণাম নিবেদন করেন। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, "আমি সকলের মুখ্যমন্ত্রী।” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়তী উপলক্ষ্যে কবিগুরুকে প্রণাম জানিয়েই মুখ্যমন্ত্রী নিজের যাত্রা শুরু করেন।

এ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরোও ২৩টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথবাক্য পাঠ করেন শুভেন্দু অধিকারী। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যে নতুন জাগরণের সূচনা হল। নতুন সরকার দায়িত্ব নিল।  কবিগুরুকে প্রধানমন্ত্রী প্রণাম জানিয়েছেন। আমরা দায়িত্বভার নিলাম। বাংলা-বাঙালির সংস্কৃতি কবিগুরুর চেতনাতে, কবিগুরুর ভাবনাতে হবে। তার শুভ সূচনা আজ হল। একটাই মন্ত্র স্বামীজির, চরৈবেতি, চরৈবেতি৷”

গত ১৫ বছর রাজ্যে একচেটিয়া রাজ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন কাজে গেলেও কখনও তাঁর মুখে বলতে শোনা যায়নি 'আমি সকলের মুখ্যমন্ত্রী'। বারংবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে ‘বাংলা বিরোধী’ বলেছেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণও শানিয়েছেন। যদিও শুভেন্দু সেই সময়ও বলেছিলেন, “আমি সকলের বিরোধী দলনেতা।”

এ দিন সাংবাদিকরা শুভেন্দু অধিকারীকে সেই প্রশ্ন করেন। উত্তরে তিনি জানান, “বিজেপি ধুতি-পঞ্জাবিতে থাকা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক দল। সেই দলকে কারও কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিতে হবে না। আমি এখানে বিতর্কিত কথা বলব না। আমি মুখ্যমন্ত্রী। আমি এখন সকলের। আমি চাই শুভবুদ্ধির উদয় হোক।’’

তিনি আরোও বলেন, “আমি শুধু বলব, যারা এখনও সমালোচনা করছেন, তাদের চৈতন্য উদয় হোক। আসলে রাজ‍্যের অনেক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। অনেক কিছু হারিয়ে গিয়েছে। অনেক কিছু ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। আমরা পশ্চিমবঙ্গকে নবনির্মাণ করতে চাই। এখন অনেক দায়িত্ব, এখন এই সব রাজনৈতিক কচকচানি, একে অপরের সমালোচনা করার সময় নেই। যা করতে চাইছে করুক। আমরা শুধু এগিয়ে যাব। উই শ্যাল ওভারকাম। আমরা করব জয়। স্বামীজির ভাষায় চরবৈতি।”

উল্লেখ্য, এ দিন জোড়াসাঁকোতে খুব হালকা ও ফুরফুরে মেজাজেই দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীকে। বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন জোড়াসাঁকোতে। পরনে গেরুয়া পাঞ্জাবি ও সাদা ধুতি পরে দেখা যায় তাঁকে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির উত্তর কলকাতার জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ, কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর মিনাদেবী পুরোহিত, জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা, সন্তোষ পাঠক।


Share