Special Intensive Rivision

চুড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে ১০ লক্ষের বেশি নাম, তালিকা পাঠানো হল কমিশনে, পিছোতে পারে তালিকা প্রকাশ

স্থানান্তরিত, মৃত, অনুপস্থিত, নিখোঁজ ভোটার খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সেই সংখ্যাটা ৫৮ লক্ষের বেশি। ১ কোটি ৩২ লক্ষের বেশি ভোটারকে শুনানি ডাকা হয়েছিল। তার মধ্যে সাত লক্ষের বেশি ভোটার শুনানিতে উপস্থিত হননি।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:২৩

চার লক্ষের বেশি ভোটারকে ‘অযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করেছে কমিশন। তাঁদের তালিকা ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও নথি যাচাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে। অনেক নথি নিস্পত্তি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তই নেওয়া যাচ্ছে না। এর আগে জানা গিয়েছিল, প্রায় সাত লক্ষের বেশি ভোটার শুনানির জন‍্য হাজির হননি। সব মিলিয়ে ১০ লক্ষের বেশি ভোটার বাদ পড়েতে চলেছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে।

স্থানান্তরিত, মৃত, অনুপস্থিত, নিখোঁজ ভোটার খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সেই সংখ্যাটা ৫৮ লক্ষের বেশি। ১ কোটি ৩২ লক্ষের বেশি ভোটারকে শুনানি ডাকা হয়েছিল। তার মধ্যে সাত লক্ষের বেশি ভোটার শুনানিতে উপস্থিত হননি। বাকি ভোটার তালিকায় রাখার জন্য ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন পিছোনো হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নথি যাচাই করে তা নিস্পতির করতে হবে। তার মধ্যে সেই কাজ শেষ না হলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ আরও পিছিয়ে যেতে পারে। কমিশন সূত্রের খবর, নথি যাচাই করে নিস্পতির না হলে আরও সময় বাড়ানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করা হতে পারে।

খসড়া তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তার পরে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকে শুনানির জন্য শুনানির জন্য তলব করা হয়েছিল। শুনানিতে আসা ভোটারদের নথি যাচাই করছে মাইক্রো অবজার্ভারেরা। এই প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। কমিশন সূত্রের খবর, নথি যাচাই করার পর ৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৭০ জনের নথিকে ‘অযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করেছে মাইক্রো অবজার্ভারেরা।  তাঁদের তালিকা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে এখনও ৪ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩২৩টি পড়ে রয়েছে। সেগুলিও এখনও যাচাই করা বাকি রয়েছে। মাইক্রো অবজার্ভারেরা প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারের নথি পুনরায় যাচাই করতে ইআরও এবং এইআরও-দের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে।

এর পাশাপাশি ইআরও এবং এইআরও-দের কাছে অনেক নথি পড়ে রয়েছে। সূত্রের খবর, প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের নথি নিস্পতি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতেই পারেননি। কমিশনের পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানা গিয়েছে।

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজে কোন নথি গ্রহণ‍যোগ‍্য হবে তার তালিকা আগেই প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। মোট ১৩টি নথিকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে এই গোটা প্রক্রিয়ায়। এই তালিকার বাইরে আর অন‍্য কোনও নথি জমা দিলে তা গ্রহণ করা হবে বলেও নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। নথি গ্রহণের ক্ষেত্রে কমিশনের নির্দেশ পালন করতে হবে বলেও নির্দেশ দেয় নির্বাচন সদন। কিন্তু তার পরেও বেশ কিছু নথি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমনকী, কমিশনের পোর্টালে আপলোড গিয়েছে খবরের কাগজ, সাদা পাতাও। কমিশনের তালিকায় নেই এমন নথিও জমা নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের কাছ থেকে জবাব চাওয়া হতে পারে। করা হতে পারে শোকজও। সঠিক কারণ না দেখাতে পারলে সাসপেন্ড করার পথেও হাঁটতে পারে নির্বাচন কমিশন।


Share