Cyber Crime

সাইবার প্রতারণার মাধ‍্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার! বড়সড় চক্রের হদিশ, ‘ডাক্তার মরফিন’-সহ ন’জন

পুলিশ জানিয়েছে, টাকার উৎস গোপন করতে অপরাধীরা ‘বহু স্তরের লেনদেন’ বা ‘মাল্টিলেয়ার ট্রানজেকশন’-এর করত। যার মাধ্যমে অর্থ জম্মু ও কাশ্মীরের বাইরে পাঠানো হতো। এমনকী, সাইবার প্রতারণার টাকা বিদেশেও পাচার করা হয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।

পুলিশ অভিযানে উদ্ধার হয়েছে সিম কার্ড, এটিএম কার্ড এবং বিদেশি টাকা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৫০

অনলাইনে বিনিয়োগের নাম করে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ। সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরে একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করেছে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে প্রতারণার পরিমাণ ২০৯ কোটি টাকা বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তদন্ত সম্পূর্ণ হলে ৪০০ কোটির বেশি হতে পারে। এই ঘটনায় হরিয়ানার হিসারের এমবিবিএস ডাক্তার একান্ত যোগদত্ত ওরফে “ডক্টর মর্ফিন”-সহ মোট ন’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গান্দেরবলের এক বাসিন্দা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তার পরে বিশেষ তদন্ত দল (সিট) গঠন করে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে পুলিশ ৮৩৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ২৯০টি অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেন নিশ্চিত করে। এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তে paisavault.com-সহ একাধিক ভুয়ো অনলাইন বিনিয়োগ ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এ সব ওয়েবসাইট সমাজমাধ্যম এবং ‘সার্চ ইঞ্জিন’-এ বিজ্ঞাপন দিয়ে বড় লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হত। সাইবার প্রতারণা করে সংগৃহীত অর্থ বাদগাম, শ্রীনগর, গান্দেরবল, বারামুল্লা ও অন্যান্য এলাকার কিছু স্থানীয় ব্যক্তিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হত।

পুলিশ জানিয়েছে, টাকার উৎস গোপন করতে অপরাধীরা ‘বহু স্তরের লেনদেন’ বা ‘মাল্টিলেয়ার ট্রানজেকশন’-এর করত। যার মাধ্যমে অর্থ জম্মু ও কাশ্মীরের বাইরে পাঠানো হতো। এমনকী, সাইবার প্রতারণার টাকা বিদেশেও পাচার করা হয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।

তদন্তে জানা গেছে, ধৃত একান্ত যোগদত্ত ফিলিপিন্সে এমবিবিএস পড়াশোনা করতেন। সেই সময় যোগদত্ত সাইবার প্রতারণার কৌশল রপ্ত করেন। এই বিষয়ে বেশ কিছু চীনের নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ। সংঘটিত ভাবে সাইবার প্রতারণা করার জন্য তিনি কাশ্মীরের স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগ করেছিলেন। যার মাধ্যমে দরিদ্র ব্যক্তিদের মাসিক ৮ থেকে–১০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং এটিএম কার্ড ব্যবহার করতে রাজি করাতেন।

এ ছাড়াও, এই সাইবার প্রতারণা চক্রে কিছু ব্যাঙ্ক কর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির কিউআর কোড সরবরাহ করেছিল। এ সব কিউআর কোড ভুয়া বিনিয়োগ ওয়েবসাইটে এবং টেলিগ্রামের গ্রুপে আপলোড করা হতো। কোনোও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হলে, প্রতারকেরা দ্রুত নতুন অ্যাকাউন্ট এবং কিউআর কোড ব্যবহার করে কার্যত অবাধে সাইবার প্রতারণা চালিয়ে যেত।

গান্দেরবল পুলিশের এসএসপি খলিল পোসওয়াল জানান, “প্রতারকেরা টেলিগ্রাম চ্যানেল ও গ্রুপে নিয়মিত নতুন কিউআর কোড আপলোড করত। কোনোও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হলে তারা সঙ্গে সঙ্গে নতুন কোড ব্যবহার করত।”

পুলিশ জানিয়েছে, একান্ত যোগদত্ত চীন থেকে দিল্লিতে ফিরছিলেন। সেই সময় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের বাকি আট জনকে জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমানে এটিএম কার্ড, সিম কার্ড, বিদেশি টাকা সমেত বেশ কিছু অপরাধ সংক্রান্ত নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কীভাবে টাকা তোলা হয়েছিল, সেই টাকা কোথায় কোথায় পৌঁছে গিয়েছিল, তা জানতে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু করা দিয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে অনলাইন প্রতারণা ও পরিচয় লুকিয়ে চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সাধারণ মানুষকে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া না দিতে এবং অতিরিক্ত লাভের প্রতিশ্রুতি দেওয়া বিনিয়োগকারী ওয়েবসাইট থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সাইবার প্রতারণার শিকার হলে ১০৩৯ নম্বরে ফোন করতে বা cybercrime.gov.in-এ অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।


Share