Kolkata Municipal Corporation

বেআইনি বাড়ি, পার্কিং ও হকার দখল, শহর পরিচালনায় পুরসভাকে তোপ কাউন্সিলরদের

বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে বিরোধী দলগুলির তরফে পুরবোর্ডের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করা হয়। ভারতীয় জনতা পার্টির ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিজয় ওঝা প্রশ্ন তোলেন, বেআইনি নির্মাণ রোখার দাবি করা হলেও বড়বাজার এলাকার তস্য গলিতে সাততলা বাড়ি কীভাবে তৈরি হল এবং কারা অনুমতি দিল।

কলকাতা পুরসভা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৭

গত পাঁচ বছরে ১১ হাজার ৫৩৯টি বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলেছে কলকাতা পুরসভা। শহরজুড়ে বেআইনি নির্মাণ বাড়ছে বিরোধীদের এই অভিযোগের মধ্যেই পুরসভার বাজেট অধিবেশনে মঙ্গলবার এমন তথ্য তুলে ধরেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে বিরোধী দলগুলির তরফে পুরবোর্ডের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করা হয়। ভারতীয় জনতা পার্টির ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিজয় ওঝা প্রশ্ন তোলেন, বেআইনি নির্মাণ রোখার দাবি করা হলেও বড়বাজার এলাকার গলিতে সাততলা বাড়ি কীভাবে তৈরি হল এবং কারা অনুমতি দিল। তিনি আরও বলেন, দোষী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না এবং অনেক ক্ষেত্রে বেআইনি নির্মাণ নিয়মিত করে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে।

জবাবে মেয়র জানান, “পাঁচ বছরে সাড়ে ১১ হাজার বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হয়েছে। গত দু'বছরে ৮৫০টা বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হয়েছে। বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট করে অভিযোগ জানালে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিজেপির সজল ঘোষ বলেন, “কলকাতার রাস্তায় বেলা পর্যন্ত বর্জ্য পড়ে থাকছে। দিন দিন বর্জ্য অপসারণে শ্রমিকের সংখ্যা কমছে। পুরসভা নতুন শ্রমিক নিয়োগ করছে না। বেআইনি পার্কিং রুখতেও ব্যর্থ পুরসভা। শহরের গলিতেও গাড়ি পার্ক করা হচ্ছে। ফুটপাথ পুরোপুরি হকারদের দখলে চলে গিয়েছে, পুরসভার কোনও নজর নেই। হকার নিয়ে কিছু বললেই টাউন ভেন্ডিং কমিটিকে দেখানো হয়।”

বর্জ্য অপসারণ বিভাগের মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কম শ্রমিকেই কাজ সামলানো সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে বেআইনি পার্কিং ও হকার সমস্যা নিয়ে মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার জানান, পার্কিং থেকে রাজস্ব আদায় বেড়েছে, যা নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপেরই ফল। হকারদের সমীক্ষায় শহরের ফুটপাথে ৫৪ হাজারের বেশি হকার চিহ্নিত হয়েছেন এবং তাঁদের ভেন্ডিং সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে শহরে আর অবৈধ হকার থাকবেন না।


Share