Murder Case

হুগলিতে ছেলে ধরা সন্দেহে আগুন দিয়ে ব্যক্তিকে পুড়িয়ে খুন, ন’বছর পর ২৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করল আদালত

২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি কল্যানী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের স্ত্রী রঞ্জুবালা ঘোষ ও মেয়ে অপর্ণা ঘোষ বলাগড়ের আসানপুর গ্রামে পরিচারিকার খোঁজে গিয়েছিলেন। তাদের গাড়ির চালক ছিলেন বিশ্বনাথ মন্ডল। বিকালে গ্রামে অচেনা লোক দেখে ছেলেধরা এসেছে বলে গুজব ছড়ায়।

অভিযুক্তদের আদালত থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, চুঁচুড়া
  • শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৮

ছেলে ধরা সন্দেহে মা ও মেয়েকে আগুনে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টা। গাড়ির চালককেও হত্যা করতে সক্ষম হয় অভিযুক্তেরা। ২০১৭ সালের ঘটনায় ২৫ জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করল চুঁচুড়া আদালত। ঘটনায় মোট ২৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছিল। 

২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি কল্যানী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের স্ত্রী রঞ্জুবালা ঘোষ ও মেয়ে অপর্ণা ঘোষ বলাগড়ের আসানপুর গ্রামে পরিচারিকার খোঁজে গিয়েছিলেন। তাদের গাড়ির চালক ছিলেন বিশ্বনাথ মন্ডল। বিকালে গ্রামে অচেনা লোক দেখে ছেলেধরা এসেছে বলে গুজব ছড়ায়। গ্রামবাসীরা ঘিরে ফেলে গাড়ি। গাড়ির চালক ও যাত্রীদের মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

খবর পেয়ে বলাগড় থানার পুলিশ গ্রামে পৌঁছালে পুলিশের ওপরেও হামলা করা হয়। ১১ জন পুলিশ ও সিভিক আক্রান্ত হন। তার মধ্যে সিভিক ভলেন্টিয়ার অখিলবন্ধু ঘোষ তীরবিদ্ধ হন। গাড়ির যাত্রী ও পুলিশদের গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে বলাগড় ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই গাড়ির চালক বিশ্বনাথ মন্ডলের মৃত্যু হয়েছিল। 

এরপর বলাগর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। ২০১৭ সালের ৯ জুন ২০ জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলার বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশিট দেয়। ২০২১ সালে ২০ এপ্রিল এই ৩০ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন হয়েছিল। তারপর কেটে গিয়েছে পাঁচটি বছর। বিচারের আশায় বুক বেঁধেছিলেন আক্রান্তেরা। অবশেষে শাস্তি পেলেন দোষীরা। 

বৃহস্পতিবার চুঁচুড়া আদালতের ফার্স্ট ট্রাক আদালতের বিচারক পীযূষকান্তি রায় অভিযুক্ত ২৫ জনকেই দোষী সাব্যস্ত করেন। ঘটনায় সরকারি আইনজীবী শংকর গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “একটা যুগান্তকারী মামলা। এই ঘটনার একটা দৃষ্টান্তমূলক রায় হতে চলেছে আগামী কাল। যে যে ধারায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তাতে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন সাজা হতে পারে। একটি মামলায় একই সঙ্গে ২৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করার ঘটনা খুবই বিরল।”


Share