Bangladeshi

এ বার নদিয়া, শৌচাগারে যাওয়ার নাম করে হাসপাতাল থেকে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালাল ধৃত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী

পলাতক আসামির নাম বিল্লাল হোসেন (১৯)। যুবক বাংলাদেশের নাগরিক। ভারতে অবৈধ ভাবে সীমান্ত পার করে এসেছিল। নদিয়ার হাঁসখালি এলাকায় বসবাস করছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিল্লালকে গ্রেফতার করে।

পলাতক আসামির নাম বিল্লাল হোসেন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, রানাঘাট
  • শেষ আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৪২

‘স‍্যার, খুব জোর প্রস্রাব পেয়েছে’। শৌচাগারে যাওয়ার নাম করে পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে গেল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। গত দু’দিন আগে মুর্শিদাবাদে এমন ঘটনা ঘটেছিল। এ বার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পলাতক আসামির নাম বিল্লাল হোসেন (১৯)। যুবক বাংলাদেশের নাগরিক। ভারতে অবৈধ ভাবে সীমান্ত পার করে এসেছিল। নদিয়ার হাঁসখালি এলাকায় বসবাস করছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিল্লালকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে ভারতে প্রবেশ করার বৈধ কোনও কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তার পরেই বিল্লালকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

রবিবার ধৃতকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন‍্য বগুলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে নিয়ে এলে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের বিল্লাল বলে, “স‍্যার, খুব জোরে প্রস্রাব পেয়েছে।” শৌচাগারে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। সেই সুযোগকে ব‍্যবহার করে হাসপাতাল থেকে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যায়। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বিল্লালকে এখনও পাওয়া যায়নি। তবে তার খোঁজ চলছে বলে পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আসামী শৌচাগারে যাওয়ার সময় নজরবন্দি করে রাখার জন‍্য কোনও পুলিশকর্মী ছিল কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজ‍্য সরকার পুলিশের দক্ষতা বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে। কিন্তু তার পরেও এমন ঘটনা ঘটায় পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকার কৃষ্ণশাইল মোড় থেকে পাঁচ জনকে আটক করা হয়। সেখানে দু’জনের নথিপত্র খতিয়ে দেখা পরে দু’জন বাংলাদেশি পুলিশ জানতে পারে। গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের নাম মহম্মদ রুবেল শেখ  এবং আনারুল শেখ। ধৃতেরা বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। শুক্রবার দুপুর ১২টা নাগাদ রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ আনারুল এবং মহম্মদ রুবেলকে জঙ্গিপুর আদালতে হাজির করানোর জন‍্য নিয়ে আসছিল। আসার পথে গাড়ি দাঁড় করিয়ে পুলিশকর্মী কিছু কাগজপত্র জেরক্স করেতে নামেন। সেই সময় সুযোগ বুঝে গাড়ি থেকে চম্পট দেয় গ্রেফতার হওয়া দু’জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। তাদের মধ্যে ধাওয়া করে আনারুলকে পাকড়াও করা গেলেও মহম্মদ রুবেল খড়খড়ি নদী পার হয়ে গোলালনগরের জঙ্গলে পালিয়ে যায়। সেই ঘটনার বিতর্ক শেষ না হতে না হতেই আবার একই ঘটনা ঘটায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


Share