Allegation Of Extortion

মোটা অঙ্কের পুজোর চাঁদা দিতে অস্বীকার, প্রকাশ্য রাস্তায় রেস্তোরাঁ মালিককে কান ধরে দাঁড় করানোর অভিযোগ রাজ্যের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে, থানায় নিয়ে গিয়ে হেনস্থা

অভিযোগ, পুজো কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বচসার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছোন এলাকার বিধায়ক তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখার্জি। পরে পুলিশ ওই রেস্তোরাঁ মালিককে থানায় নিয়ে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয় বলে জানা গিয়েছে।

রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, বিধাননগর
  • শেষ আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:২৭

‘কেন টাকা দেবেন না…,’ দুর্গাপুজোর জন‍্য মোটা অঙ্কের চাঁদা চাওয়া হয়েছিল। তা দিতে অস্বীকার করেন ব‍্যবসায়ী। তা নিয়ে বচসা হয়। তার জেরেই প্রকাশ্য রাস্তায় রেস্তোরাঁ মালিককে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। বিধাননগরের এডি ব্লকের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশ তাঁকে হেনস্থা করেছে বলেও ওই ব‍্যবসায়ী দাবি করেছেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার এডি ব্লকে ঘটনাটি ঘটেছে। দুর্গাপুজো কমিটির কয়েক জন সদস্য চাঁদা চাইতে 'ফ্লাই কোজিনা' নামে স্থানীয় এক রেস্তোরাঁয় যান। রেস্তরাঁ মালিকের দাবি, গতবারের তুলনায় এ বারের চাঁদা টাকা বেশি দিতে হবে জোরজুলুম করে। তা নিয়ে রেস্তোরাঁ মালিক আপত্তি জানান। 

রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা বিধাননগরের বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। রেস্তোরাঁ মালিকের দাবি, কয়েক দিন আগেই তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে এক লক্ষ টাকা দিয়েছেন। বিধায়ককে টাকা দেওয়ার বিষয়টি দুর্গাপুজো কমিটির সদস্যদের জানান। অভিযোগ, তার পরেই তাঁর বচসা শুরু হয়ে যায়।

ওই রেস্তরাঁর মালিক জানান, ওই পুজো কমিটির সম্পাদক চিকিৎসক রাজশ্রী রায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পূর্বপরিচিত। স্থানীয় সূত্রের খবর, অতীতে অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে তিনি মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই পরিচয়ের সূত্রেই পেশায় চিকিৎসক রাজশ্রী রায় সরাসরি বিধায়ক তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ফোন করে রেস্তোরাঁ মালিকের এক লক্ষ টাকা দেওয়ার বিষয়টি জানান।

অভিযোগ, এর পরেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। সেখানেই রেস্তোরাঁ মালিককে প্রকাশ্য রাস্তায় কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখার নিদান দেন। মালিক সেটাও করেন। এখানেই শেষ নয়, পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। সেখান থেকে রেস্তোরাঁর মালিককে থানায় নিয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা থানায় বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। ওই রেস্তরাঁর মালিক পুলিশের বিরুদ্ধেও হেনস্থার অভিযোগ করেছেন। 

ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। যদিও গোটা অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ‍্যমন্ত্রী বা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তোলাবাজির অভিযোগে একাধিক বিজেপির কর্মীদের শোকজ করা হয়েছে। সাসপেন্ডও করা হয়েছে। তোলাবাজিতে মদত দেওয়ার অভিযোগে বিজেপির কয়েক জন বিধায়ককে সতর্ক করেছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল। পরে এমন ঘটনা ঘটেতে থাকলে তা নিয়েও রাজ‍্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও কয়েক জন বিধায়ককে ভর্ৎসনা করেন। তবে এই বিষয়ে শারদ্বতের বিরুদ্ধে দল কোনও ব্যবস্থা নেয় কি না তাই দেখার।


Share