TMC Political Crisis

নদিয়ায় তৃণমূল বনাম তৃণমূল, কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়াকে ঘিরে বিক্ষোভ, স্থানীয় বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জনরোষ বলে দাবি জেবের শেখের

চাপড়ার তৃণমূল বিধায়ক জেবের শেখের দাবি মহুয়া মৈত্রকে দেখে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। সেখানে কোনও বিজেপি বা তৃণমূল ছিল না। যদি কোনও দলীয় কর্মী হত তা হলে দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে যেতেন।

বিক্ষোভের মুখে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া
  • শেষ আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫০

নদিয়ায় সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। চাপড়ার তৃণমূল বিধায়ক জেবের শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন মহুয়া। তাঁর বক্তব্য, চাপড়ায় বিজেপি বলে কিছু নেই। যা আছে তৃণমূল। জেবের শেখকে ‘গদ্দার’ বলে কটাক্ষ করে তাঁর দিকেই আঙুল তুলেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে কৃষ্ণনগরের চাপড়ার এলামনগরে সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিতে আসেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি কৃষ্ণনগর লোকসভার সাংসদ। চাপড়া বিধানসভা তাঁরই লোকসভার অন্তর্গত। এলামনগরের একটি লজে তিনি বৈঠক করেন। জানা গিয়েছে, তিনি বৈঠকে যোগ দিতে এসেছেন, খবর ছড়িয়ে পড়তেই লোকজন জড়ো হয়। সেই সময় লজের বাইরে বিক্ষোভ শুরু হয়। কালো পতাকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও। এমনকী, বৈঠক শেষে লজ থেকে বেরিয়ে আসার সময় মহুয়া মৈত্রকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তিনি করেছেন।

এ দিন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সামনে বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। মহুয়া মৈত্রের অনুগামীরাও পাল্টা স্লোগান দেয়। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতিও হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাচক্রে পরিস্থিতি সামাল দিতে কোনও পুলিশ ছিল না বলেই একাংশ অভিযোগ করছেন। অবশেষে দু’পক্ষকে কোনও ভাবে সেখান থেকে সরিয়ে গাড়িতে উঠে এলাকা ছাড়েন মহুয়া। 

ঘটনা নিয়ে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মহুয়ার বক্তব্য, চাপড়ায় বিজেপি বলে কিছু নেই। যাঁরা তাঁকে দেখে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, তাঁরা স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক জেবের শেখের লোক। অভিযোগ, জেবের শেখই এদেরকে বিক্ষোভ দেখানোর জন‍্য পাঠিয়েছে। তাঁর আরও বক্তব্য, জেবের শেখ চাপড়ায় তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে ভোট লুট করে জিতেছে। জেবের তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গদ্দারি করেছেন। তাঁকেই পাল্টা কালো পতাকা দেখানো উচিত বলে মহুয়া মনে করেন। 

এ দিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মহুয়া বলেন, “তাঁরা আমাকে কালো পতাকা দেখিয়ে অযথা সময় নষ্ট করছেন। কারণ চাপড়ায় বিজেপি নেই। এদের সবাইকে জেবের শেখ পাঠিয়েছে। ‘গো ব‍্যাক’ বলে প্রচারের আলোয় এলে জীবন যদি সুন্দর হয় তা হলে কোনও সমস্যা নেই। ওরা সবাই জেবেরের লোক। সংবাদমাধ্যম আছে বলে তাঁরা এ সব করছে। না থাকলে এটা করত না।” 

তৃণমূল জমানায় নদিয়া জেলার রাজনীতিতে জেবের শেখ মহুয়া মৈত্রের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিল। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরে তৃণমূল দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। ২০ জন সাংসদেরা এনসিপিআইতে চলে গিয়েছেন। তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরে রয়ে গিয়েছেন মহুয়া মৈত্র। আবার বিধানসভাতেও ভেঙেছে তৃণমূল। বেশিরভাগই বিধায়কেরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। জেবের শেখও ঋতব্রত শিবিরে চলে গিয়েছেন। 

জেবের ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ উঠতেই কার্যত রেগে যান মহুয়া। তিনি জেবেরকে বেনজির আক্রমণ করে বলেন, “জেবের আমার লোক ছিল না। ও তৃণমূলের প্রতীকে জিতেছিল। আমার পেটের ছেলে তো না। আমার লোক মানে কী? আমার পেটের ছেলে? কে ও? ও প্রতীকে জিতেছে। প্রতীক নিয়ে জিতেছে। তৃণমূলের প্রতীকে জিতে গদ্দারি করেছে।” 

মহুয়ার আরও অভিযোগ, “জেবের এখন চারটি পুলিশ নিয়ে ঘুরছে। তাঁর ভাই না দাদার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে বাঁচানোর জন‍্য যদি এটা করে থাকে তাহলে আমার কিছু করার নেই।”

চাপড়ার তৃণমূল বিধায়ক জেবের শেখের দাবি মহুয়া মৈত্রকে দেখে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। সেখানে কোনও বিজেপি বা তৃণমূল ছিল না। যদি কোনও দলীয় কর্মী হত তা হলে দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে যেতেন। 

জেবের শেখ পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, “২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে মহুয়া মৈত্র কৃষ্ণনগর থেকে জিতেছিলেন। চাপড়ার মানুষ কীভাবে নির্বাচিত করে দিল্লিতে পাঠিয়েছিল তা সবাই দেখেছে। তার কারিগর আমরাই ছিলাম। আমি শুধু একা নই সবাই ছিলাম। ২০১৯ সালের নির্বাচনে ৫০ হাজার এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৫৭ হাজারের বেশি ভোটে তিনি জিতেছিলেন। তার পরেও চাপড়ার মানুষ জানতে চাইছে, তিনি কী করেছেন? তিনি কিছুই করেননি। তাই সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন।”


Share