BJP Worker Murder

শমসেরগঞ্জে বিজেপি কর্মীকে খুন, দেহ টুকরো ফেলে দেওয়ার হয় বিভিন্ন জায়গায়, নিখোঁজের মামলা তদন্তে শুরু করে পুলিশের হাতে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জে ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতের নাম সুজিত মণ্ডল (৩৬)। ধুলিয়ান পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি এলাকার বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সুজিত পেশায় বিড়ি শ্রমিক। গত ২৮ অগস্ট সকাল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর
  • শেষ আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৫৭

প্রথমে নিখোঁজ হলেন। ডায়েরিও হল। তদন্ত শুরু হল। পুলিশ জানতে পারল, ব‍্যক্তি নিখোঁজ হননি। তাঁকে খুন করা হয়েছে। খুনের অভিযোগ দায়ের হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার হয় অভিযুক্তরা। কিন্তু দেহ কোথায় গেল? শুক্রবার খাল থেকে একটি কাটা পা উদ্ধার হল। পুলিশ কার্যত নিশ্চিত যে দেহাংশটি খাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তা মৃতেরই। বাকি দেহাংশ কোথায় ফেলে দেওয়া হয়েছে তার খোঁজ চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জে ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতের নাম সুজিত মণ্ডল (৩৬)। ধুলিয়ান পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি এলাকার বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সুজিত পেশায় বিড়ি শ্রমিক। গত ২৮ অগস্ট সকাল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

পুলিশ সূত্রের খবর, নিখোঁজ হওয়ার আট ঘণ্টা পরে শমসেরগঞ্জ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। শুরু হয় তদন্ত। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে, ২৮ অগস্ট সকাল ৭টা ৩৮ মিনিটে সুজিতকে নিয়ে এক ব্যক্তি ধুলিয়ান ডাকবাংলো মোড়ের একটি ভাড়া বাড়িতে ঢোকে। তার পরের গতিবিধি দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, বাড়িতে ঢোকার কয়েক ঘণ্টা পরেই সুজিতকে খুন করা হয়েছে। ওই দিন দুপুর দেড়টা নাগাদ মোটরবাইকে করে একটি বস্তায় ভরে প্রথম বার সুজিতের শরীরের কিছু অংশ ফেলে আসে ওই ব্যক্তি। ফের ওই দিন দুপুর ২টো ৫৫ মিনিটে বাকি অংশ ফেলে দিয়ে আসা হয়।

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ সামাউল হক, তাজকিরা বিবি এবং জনি শেখ নামে তিন জনকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে সামাউলকেই সুজিতকে বাইকে বসিয়ে নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। তার পরে বস্তা নিয়ে মোটরবাইকে করে বেরোতেও দেখা গিয়েছে। তিন ধৃতকে আদালতে পেশ করা হয়েছে। পুলিশ ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেই খুনের জট খুলেছে বলে জেলা পুলিশের একটি সূত্র বলছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, অপরাধীরা খুনের পরে নতুন ছক সাজিয়েছিল। সুজিতকে অপহরণ করা হয়েছে বলে তাঁর বাড়িতে ফোন করে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। সুজিতকে খুন করে তাঁর মোবাইল থেকে সিম খুলে তাজকিরার মোবাইল থেকে ফোন করা হয়। পুলিশ সেই ফোন ট্র্যাক করে দুষ্কৃতীদের টাওয়ারের অবস্থান জানতে পারে। গত ২৯ অগস্ট গভীর রাতে ডাকবাংলো মোড়ের ভাড়া বাড়ি থেকে সামাউল হক ও তাজকিরা বিবিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাঁদের পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জেরা করে জনি শেখকে গ্রেফতার করা হয়।

টাকাপয়সা লেনদেনের জেরে এই খুন হয়েছে বলে অনুমান করছে পুলিশ। খুনে মূল অভিযুক্ত সামাউল হক মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা এলাকার বাসিন্দা। তার একটি কাপড়ের দোকান রয়েছে। তার আগে বিড়ি কারখানাতে গাড়ি চালাতো সামাউল। সেখানেই সুজিতের সঙ্গে পরিচয় হয়। সেই সুবাদে সুজিতের কাছ থেকে বেশ কয়েক হাজার টাকা ধার নিয়েছিল সামাউল। সেই পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে ঝামেলা শুরু হয়। তার জেরেই বিজেপি কর্মী সুজিতকে খুন হতে হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সামাউলের সঙ্গে তাজকিরার সম্পর্ক। জনি শেখ তাজকিরার ছোট জামাই। গত সাত-আট মাস ধরে সামাউল ও তাজকিরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ধুলিয়ানে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছিল। তাজকিরার ছোট জামাই জনি পরিযায়ী শ্রমিক। কাজের সূত্রে সিকিমে কাজ করত। বিজেপি কর্মী সুজিতকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়। তার জন্য জনি শেখকে সিকিম থেকে ডেকে নিয়ে আসা হয়েছিল।

দেহের বাকি অংশ এখনও পাওয়া যায়নি। তারই খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। ধৃতদের দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে।


Share