Bus Service Halted

‘হয় টোটো চলবে না হয় বাস,’ গোটা নদিয়া জেলায় স্তব্ধ বাস চলাচল, নির্দেশিকা অমান্য করে হাইওয়েতে টোটোর দাপট অব্যাহত, পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

মেসেজ করা হলে তিনি এখন কলকাতা-কে জানিয়েছেন, “তিনি বৈঠকে রয়েছেন।” যদি তাঁর কোনও বক্তব্য মেলে, পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যোগ করা হবে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর
  • শেষ আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৬ ০১:০০

হয় টোটো চলবে, না হয় বাস। টোটোর দাপটে অতিষ্ঠ বাস মালিকেরা। নদিয়া জেলা জুড়ে স্তব্ধ বাস পরিষেবা। চলতি মাসে হাইওয়েতে টোটো চলাচল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করতে রাজ‍্য পুলিশের ডিজিকে নির্দেশ দিয়েছিল পরিবহণ দফতর। তার পরেও তা বন্ধ না হওয়ায় বাস পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল নদিয়া জেলার বাসের মালিকেরা।

জানা গিয়েছে, বহরমপুর, শান্তিপুর, রানাঘাট, কালনাঘাট, করিমপুর, বেতুয়া, ধুবুলিয়া, পলাশি, পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া, শান্তিপুর, কৃষ্ণনগর-সহ একাধিক রুটে বাস পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। সমস‍্যার সমাধান না হওয়া বাস রাস্তায় না নামার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। জেলার বাসের মালিকদের বক্তব্য, জাতীয় ও রাজ্য সড়কগুলিতে টোটোর দাপট বেড়েছে। নির্দিষ্ট করে দেওয়া স্টপেজ বাদেও যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে প‍্যাসেঞ্জার তুলছে। কিন্তু বাসের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্টপেজেই দাঁড়াতে হয়। এর ফলে প‍্যাসেঞ্জারেরা বাসের বদলে টোটোতে উঠে পড়ছেন। যাত্রীদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ফলে জ্বালানির খরচ তুলতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে।

গত ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক টোটো চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে। তার প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে রাজ‍্য সরকার কোন রাস্তায় টোটো চালানো যাবে তা নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ‍্য সড়ক, জাতীয় সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দিয়ে টোটো কোনও ভাবেই চলাচল করবে না। এ ছাড়াও, সরকারের নির্দিষ্ট করে দেওয়া রাস্তা ছাড়া টোটো চলাচল করবে না বলেও জানানো হয়।

চলতি মাসে পরিবহণ দফতরের সচিব রবিইন্দর সিংহ রাজ‍্য পুলিশের ডিজিকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। বড় রাস্তায় যাতে টোটো কোনও ভাবেই না চলাচল করতে পারে তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়। টোটো এক এবং একমাত্র পাড়ার রাস্তাতেই চলার কথা। তাই পরিবহণ আইন মেনে এই কাজ করতে হবে। যদি নির্দেশ অমান‍্য করে তাহলে এমভি আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ করতে হবে বলেও পুলিশকে নির্দেশ দেন।

কিন্তু তার পরেও দেখা যাচ্ছে, জাতীয় এবং রাজ‍্য সড়কে টোটো দৌরাত্ম্য অব্যাহত রয়েছে। এক বাস পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত এক কর্মী বলেন, “বাসে একেবারেই যাত্রী নেই। মালিক আর কন্ডাক্টরের মধ্যে ঝামেলা বেধে যাচ্ছে। টাকা না ওঠায় মালিকের বেতন দিতে পারছেন না।” তাঁর আরও অভিযোগ, “আমাদের রুটের অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু টোটোর রুটের কোনও অনুমতি নেই। আমরা ট‍্যাক্স দিই। ওরা কোনও ট‍্যাক্স দেয় না। পরিবহণ দফতর নির্দেশিকা জারি করেছে ঠিকই। কিন্তু তা কার্যকর হচ্ছে না।” পরিবহণ দফতর এবং পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকেই দায়ী করছেন কেউ কেউ।

নদিয়া জেলায় বাসের হাহাকার নিয়ে পরিবহণ দফতরের সচিবকে রবিইন্দর সিংহকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। মেসেজ করা হলে তিনি এখন কলকাতা-কে জানিয়েছেন, “তিনি বৈঠকে রয়েছেন।” যদি তাঁর কোনও বক্তব্য মেলে, পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যোগ করা হবে।

কোনও কোনও বাসের মালিকদের এ-ও অভিযোগ, টোটো নিয়ে নির্দেশিকা জারি হয়েছে কিন্তু তা নীচু স্তরের তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। পুলিশের বিরুদ্ধেও তাঁরা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশের চোখের সামনে দিয়ে রাজ্য এবং জাতীয় সড়কে টোটো চলাচল করছে। পুলিশের নীচু স্তরের কেউ কেউ টাকা নিয়ে এই টোটোগুলিকে চলাচল করতে দিচ্ছে।

বাস কর্মচারীদের দাবি, "হাইওয়েতে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে টোটো চলছে। এই দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনকে এই বিষয়ে স্থায়ী সমাধান বের করতে হবে। যতক্ষণ সমস‍্যার সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ আমাদের এই আন্দোলন চলবে। অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।" আচমকা বাস পরিষেবা বন্ধ হওয়ার কারণে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

ঘটনায় নিয়ে রাজ‍্য বাস এবং মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপনারায়ণ বোস বলেন, “এটা শুধু নদিয়া দিয়ে শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে হাওড়া, হুগলি-সহ সব জায়গায় হবে। পূর্বতন সরকারের আমলে হাইওয়েতে টোটো চলাচলের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কোনও ব‍্যবস্থা নেয়নি। সরকার সময় চেয়েছে। সরকারের তরফে আমাদের দাবি করেছে, এই টোটোর চলাচল ধীরে ধীরে বন্ধ করা হবে। রাজ‍্য পুলিশের ডিজিকে গোটা বিষয়টি জানানো হয়েছে।”


Share