Mysterious Death

ফের বারুইপুরে হাসপাতালে বিচারাধীন বন্দির মৃত্যু, খুনের অভিযোগ স্ত্রীর, চলছে তদন্ত

ভুয়ো চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা করা এবং টাকার বিনিময়ে ভুয়ো ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগে গত অক্টোবর মাসে গ্রেফতার হয়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের বেতবেড়িয়ার বাসিন্দা বাসুদেব।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর
  • শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২৮

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ফের বিচারাধীন বন্দির মৃত্যু। মৃত বাসুদেব নস্কর (৪৪)-এর স্ত্রী সোনালি নস্করের অভিযোগ, তাঁর স্বামীকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। ভুয়ো চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা করা এবং টাকার বিনিময়ে ভুয়ো ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগে গত অক্টোবর মাসে গ্রেফতার হয়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের বেতবেড়িয়ার বাসিন্দা বাসুদেব। আদালতের নির্দেশে জেল হেফাজতে থাকা ওই বন্দির মৃত্যু ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পরিবার সূত্রে খবর, সোমবার পুলিশের কাছ থেকে স্বামীর অসুস্থতার খবর পান সোনালি। খবর পেয়েই জেলে ছুটে যান তিনি। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, বাসুদেবকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে পৌঁছোন সোনালি। তাঁর অভিযোগ, সেখানে গিয়ে দেখেন, হাসপাতালের বেডের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে রয়েছেন স্বামী। সেই দৃশ্য দেখে বাড়ি ফিরে যান তিনি। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ফের স্বামীকে দেখতে হাসপাতালে গিয়ে তাঁর মৃত্যুর খবর পান সোনালি। বাসুদেবকে হাসপাতালে ভর্তি করানো থেকে শুরু করে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত কোনও বিষয়েই পুলিশ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বলে অভিযোগ মৃতের স্ত্রীর।

স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় সরাসরি খুনের অভিযোগ তুলেছেন সোনালি। তাঁর দাবি, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কী কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বাসুদেব? হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল? কেন তাঁর হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিল? হাসপাতালে থাকাকালীন তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বেই বা কারা ছিলেন? এই সব প্রশ্নকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। মঙ্গলবার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর কথা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই ঘটনায় পরিবারের তোলা খুনের অভিযোগ নিয়ে পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের শৌচাগার থেকে উদ্ধার হয়েছিল বিচারাধীন বন্দি আজহারুল লস্করের দেহ। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একই হাসপাতালে আরও এক বিচারাধীন বন্দির মৃত্যু হল। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পরপর দুই বন্দির মৃত্যুর ঘটনায় জেল হেফাজতে থাকা বন্দিদের নিরাপত্তা, অসুস্থ অবস্থায় তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং হাসপাতালের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাসুদেব নস্করের মৃত্যুর নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।


Share