Fire Safety

অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় এ বার বডিক্যামের নজরদারি! ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের দমকল সদর দফতরে জায়ান্ট স্ক্রিনে সরাসরি দেখা যাবে আগুন নেভানোর ছবি

সব ঠিকঠাক থাকলে কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে দমকলের সদর দফতরে এই আধুনিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এই পরিকল্পনা নিয়ে মঙ্গলবার দফতরের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৪৮

অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় আরও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ করতে প্রযুক্তির সাহায্য নিতে চলেছে রাজ্য দমকল দফতর। এ বার আগুন নেভানোর কাজে নিযুক্ত দমকলকর্মীদের ব্যবহার করতে হতে পারে বিশেষ বডিক্যামের। ঘটনাস্থলে কাজ করার সময় সেই ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবি সরাসরি পৌঁছে যাবে দমকলের সদর দফতরের সেন্ট্রাল কন্ট্রোল ইউনিটে। সেখানে জায়ান্ট স্ক্রিনে বসেই পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে পারবেন দমকলের শীর্ষ আধিকারিকরা। সব ঠিকঠাক থাকলে কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে দমকলের সদর দফতরে এই আধুনিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এই পরিকল্পনা নিয়ে মঙ্গলবার দফতরের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থা চালু হলে একই সময়ে একাধিক জায়গায় অগ্নিনির্বাপণের কাজের অগ্রগতি সদর দফতর থেকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকলকর্মীরা ঠিক কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, কোথায় আগুনের তীব্রতা বেশি, কোন এলাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে কিংবা উদ্ধারকাজে কী ধরনের বাধা তৈরি হচ্ছে, তা সরাসরি দেখে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন শীর্ষ আধিকারিকরা। এর ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নির্দেশ দেওয়া এবং বিভিন্ন দমকল ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষ করে বহুতল, ঘিঞ্জি বসতি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বড় কারখানায় আগুন লাগলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। কোথাও মানুষ আটকে পড়লে কিংবা আগুনের উৎস শনাক্ত করতে সমস্যা হলে ঘটনাস্থলে থাকা কর্মীদের ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত দমকলকর্মী, ইঞ্জিন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানোর সিদ্ধান্তও দ্রুত নেওয়া সম্ভব হবে। এর আগে মূলত পুলিশকর্মীদের বডিক্যাম ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। এ বার দমকলের কাজেও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

এই ব্যবস্থার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, অগ্নিনির্বাপণ অভিযানের বিভিন্ন পর্যায়ের ছবি রেকর্ড করে রাখার সম্ভাবনা। কোনও অভিযানে কোথায় সমস্যা তৈরি হয়েছিল, কী কারণে উদ্ধারকাজে দেরি হয়েছিল কিংবা ভবিষ্যতে কীভাবে পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে সামাল দেওয়া যায়, তা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ওই ছবি কাজে লাগতে পারে। তবে সরাসরি সম্প্রচারের পাশাপাশি ছবি সংরক্ষণ করা হবে কি না এবং কত দিন তা রাখা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি।

দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, শুধু দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোনোই নয়, সেখানে পৌঁছে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণের কাজ কীভাবে এগোচ্ছে, তার উপর নজর রাখাও অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করতে গিয়ে কোনও দমকলকর্মী বিপদে পড়েছেন কি না, তা বুঝতেও এই প্রযুক্তি সাহায্য করতে পারে। প্রকল্পটি চলতি অর্থবর্ষেই বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।


Share