Kolkata Municipal Corporation

কলকাতা পুরসভা ভোটের প্রস্তুতি তুঙ্গে, ২০৯ ওয়ার্ডে ৩২ লক্ষের বেশি ভোটারের খসড়া তালিকা প্রকাশ

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই পুরসভা নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

কলকাতা পুরসভা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:৪১

কলকাতা পুরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে আরও এক ধাপ এগোল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সোমবার প্রকাশিত হল কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) ভোটার তালিকার খসড়া। ২০৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩২ লক্ষেরও বেশি। নতুন করে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পর এই প্রথম কলকাতার বাসিন্দারা নিজেদের নতুন ওয়ার্ড নম্বর জানার সুযোগ পেলেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই পুরসভা নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ফলে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০৯। রাজ্য প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অধিকাংশ ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা ১২ হাজার থেকে ১৮ হাজারের মধ্যে রাখা হয়েছে। সাধারণত প্রতি বুথে ভোটারের সংখ্যা ৯০০ থেকে ১২০০। তবে কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। কোথাও ভোটারের সংখ্যা ১২ হাজারের কম, আবার কোথাও ১৮ হাজারের বেশি। পুনর্বিন্যাসের সময় ওয়ার্ডগুলির সীমানা এমনভাবে নির্ধারণের চেষ্টা হয়েছে, যাতে ভোটারের সংখ্যায় ভারসাম্য বজায় থাকে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজনৈতিক দলগুলির হাতে ভোটার তালিকার হার্ড কপি তুলে দেওয়া হবে। তবে খসড়া তালিকা কোনও ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের আরও ছ’টি পুরসভা ও পুরনিগমের নির্বাচন নিয়েও তৎপরতা শুরু হয়েছে। কলকাতা পুরসভা, হাওড়া পুরনিগম, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং—এই সাতটি নাগরিক সংস্থার নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি আগামী সপ্তাহের গোড়ায় জারি হতে পারে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ২৯ অক্টোবরের পর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে উঠে আসছে ২ নভেম্বর, সোমবার।

নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, প্রথমে রাজ্য সরকারের তরফে ভোটের তারিখ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। তার পর রাজ্য নির্বাচন কমিশন মনোনয়ন জমা, মনোনয়নপত্র পরীক্ষা, প্রার্থীপদ প্রত্যাহার এবং ভোটগ্রহণ-সহ বিস্তারিত নির্ঘণ্ট প্রকাশ করবে। রাজ্য সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার পর রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকও করবে কমিশন।

নির্বাচন ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের আগেই নতুন পুরবোর্ড গঠনের লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গত জুনে কলকাতা পুরসভার সদর দফতর পরিদর্শনের সময় ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বোর্ড গঠনের কথা জানিয়েছিলেন। কমিশনের এক আধিকারিকের বক্তব্য, ৩০ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বিজ্ঞপ্তি জারি এবং ভোটগ্রহণের মধ্যে অন্তত ২৪ দিনের ব্যবধান রাখতে হয়। ফলে ২ নভেম্বর বিজ্ঞপ্তি জারি হলে ৩০ নভেম্বরের আগেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে করছে কমিশন।


Share