Kunal Ghosh

বিজয়া দশমীর ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিপাকে কুণাল ঘোষ, বাড়িতে হাওড়া পুলিশের গোয়েন্দা দল! চার দিনের মধ্যে হাজিরার নির্দেশ, অমান্য করলে গ্রেফতারির হুঁশিয়ারি

সেই মামলার সূত্রেই কুণালকে নোটিস দিয়েছে পুলিশ। আগামী চার দিনের মধ্যে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশ পালন না করলে গ্রেফতার করা হতে পারে বলেও নোটিসে উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি।

কুণাল ঘোষ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০০

বিজয়া দশমীতে করা ফেসবুক পোস্ট ঘিরে ফের আইনি জটিলতায় মমতা-তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। মঙ্গলবার তাঁর বাড়িতে পৌঁছোয় হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের একটি দল। সূত্রের খবর, বেলেঘাটার বিধায়কের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলার সূত্রেই কুণালকে নোটিস দিয়েছে পুলিশ। আগামী চার দিনের মধ্যে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশ পালন না করলে গ্রেফতার করা হতে পারে বলেও নোটিসে উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি।

দশমীর দিন হাওড়ার বাজে কদমতলা ঘাটে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছিলেন কুণাল। সেই পোস্টের বিষয়বস্তু ঘিরেই পুলিশের এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। যদিও নিজের পোস্টে কোনও আপত্তিকর বিষয় নেই বলেই দাবি করেছেন বিধায়ক। পুলিশের নোটিস পাওয়ার পর সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, তাঁকে মামলা ও গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে চাপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কুণাল লিখেছেন, ‘আরও একটি মামলা আমার বিরুদ্ধে। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের টিম বাড়িতে হাজির। নোটিস দিলেন। চার দিনের মধ্যে না মানলে গ্রেফতার, লেখাই আছে। শুনলাম আমার একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে আপত্তি। চেক করলাম। কোনও আপত্তিকর পোস্ট করিনি।’

নিজের ধর্মীয় পরিচয় ও পুজোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগসূত্রের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। কুণালের দাবি, তিনি নিজেও হিন্দু এবং পুজোর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় মঠ, সনাতনী ধর্ম প্রচারণী সভা ও মিশনের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে সনাতনী ধর্ম সম্পর্কে নতুন করে শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। রাজনীতির স্বার্থে তিনি ওই শব্দ ব্যবহার করেন না বলেও স্পষ্ট করেছেন বিধায়ক।

পুলিশের এই পদক্ষেপকে নিজের বিরুদ্ধে চাপ তৈরির চেষ্টা বলে অভিযোগ করেছেন কুণাল। তাঁর আরও দাবি, এর আগে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। হাই কোর্ট যথাযথ নিরাপত্তার নির্দেশ দিলেও পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ তাঁর। সেই পরিস্থিতিতে একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে গ্রেফতারির হুঁশিয়ারি দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। কুণালের কথায়, এভাবে তাঁকে থামানো যাবে না।

উল্লেখ্য, এর আগেও একটি পৃথক মামলায় পুলিশি জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল কুণালকে। বেলেঘাটার বিজেপি প্রার্থী পার্থ চৌধুরীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। অভিযোগ, ২৬ সেপ্টেম্বর শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় তাঁর গাড়িতে হামলা চালানো হয়। পরের দিন নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বেলেঘাটাতেও বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলেন কুণাল।

অন্যদিকে, নিজের উপর হামলার অভিযোগ করতে গিয়ে কুণাল বিজেপির বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়াই মিথ্যা অভিযোগ করেছেন এবং কুকথা বলেছেন বলে নারকেলডাঙা থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন পার্থ চৌধুরী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কুণালকে তলব করেছিল পুলিশ। তার পর ফের নতুন মামলায় তাঁর বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে দশমীর পোস্ট সংক্রান্ত মামলায় পুলিশের অভিযোগের নির্দিষ্ট বিবরণ এখনও স্পষ্ট নয়।


Share