Coal Mine Accident

অসুস্থ বন্দিকে দেখতে সেলে ঢুকতেই জেলকর্মীদের ওপর হামলা! নিরাপত্তা বলয় ভেঙে একসঙ্গে পালাল ১৭ জন বন্দি, তল্লাশিতে ১৭টি বিশেষ দল

কীভাবে জেলের ভিতরে এত জন বন্দি একযোগে নিরাপত্তা বলয় ভেঙে পালিয়ে গেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতকদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, তামিলনাড়ু
  • শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৫৪

রাতের অন্ধকারে জেলের ভিতরে নজিরবিহীন ঘটনা! এক বন্দির অসুস্থতার খবর পেয়ে তাঁকে দেখতে সেলে ঢুকেছিলেন জেলকর্মীরা। আর সেই সুযোগেই তাঁদের উপর হামলা চালিয়ে একসঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল ১৭ জন বন্দির বিরুদ্ধে। সোমবার গভীর রাতে তামিলনাড়ুর থেনি জেলার একটি সাব-জেলে এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কীভাবে জেলের ভিতরে এত জন বন্দি একযোগে নিরাপত্তা বলয় ভেঙে পালিয়ে গেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতকদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সাব-জেলের একই সেলে ১৭ জন অভিযুক্ত বন্দি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এক জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর পান জেলকর্মীরা। সেই খবরের ভিত্তিতে বন্দির শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে সেলে প্রবেশ করেন তাঁরা। অভিযোগ, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আচমকাই জেলকর্মীদের উপর চড়াও হন বন্দিরা। তাঁদের ওপর হামলা চালানোর পর সেল থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যান ১৭ জনই। আচমকা এই ঘটনায় জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এত জন বন্দি কীভাবে একসঙ্গে পালানোর সুযোগ পেলেন, নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়িয়ে কীভাবে তাঁরা জেলের বাইরে বেরিয়ে গেলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ঘটনার পরপরই পলাতক বন্দিদের ধরতে তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযানের সময় এক পলাতক বন্দিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১৬ জনের সন্ধানে গঠন করা হয়েছে ১৭টি বিশেষ পুলিশ দল। থেনি জেলার পাশাপাশি আশপাশের এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে পলাতকরা অন্যত্র পালিয়ে যেতে না পারেন।

পলাতকদের গতিবিধি আটকাতে প্রতিবেশী জেলায় ১৬টি জায়গায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি মাদুরাই এবং কেরলের ইদুক্কি জেলা পুলিশকেও সতর্ক করা হয়েছে। পলাতক বন্দিদের ছবি বিভিন্ন পুলিশ আধিকারিকের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে তাঁদের সহজে শনাক্ত করা যায় এবং সম্ভাব্য গতিবিধি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়া যায়।

জেলের ভিতরে এমন ঘটনার পিছনে নিরাপত্তার গাফিলতি ছিল কি না, তা এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একসঙ্গে এত জন বন্দির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বাকি পলাতকদের দ্রুত গ্রেফতার করাই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।


Share