Accident

পাণ্ডবেশ্বরের কুমারডিহি কোলিয়ারিতে বড় বিপত্তি! খনির ২০০ ফুট নীচে ডুলি আটকে ১২ শ্রমিক, ১২ ঘণ্টা পর উদ্ধার

খবর পেয়ে সোমবার রাতেই কোলিয়ারিতে যান এলাকার বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা হয় আটকে পড়া শ্রমিকদের। পরে তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

উদ্ধার করা হয়েছে শ্রমিকদের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পান্ডবেশ্বর
  • শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৫৮

সোমবার পাণ্ডবেশ্বরের কুমারডিহি কোলিয়ারিতে বড়সড় বিপত্তি। খনির প্রায় ২০০ ফুট নীচে আচমকাই আটকে যায় শ্রমিকদের ওঠানামার ডুলি। তার ভিতরেই আটকে পড়েন ১২ জন শ্রমিক। খবর ছড়াতেই শুরু হয় তৎপরতা। শ্রমিকদের উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়ে খনি কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন। ঘটনাস্থলে পৌঁছোন পুলিশ আধিকারিকরা। খবর পেয়ে সোমবার রাতেই কোলিয়ারিতে যান এলাকার বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা হয় আটকে পড়া শ্রমিকদের। পরে তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

জানা গিয়েছে, সোমবার অন্যান্য দিনের মতোই কুমারডিহি কোলিয়ারিতে চলছিল কয়লা উত্তোলনের কাজ। সেই সময় খনির ভিতরে কাজ সেরে ডুলিতে চড়ে উপরে উঠছিলেন শ্রমিকেরা। কিন্তু সন্ধ্যার পর আচমকাই ডুলিটি মাঝপথে আটকে যায়। ফলে খনির প্রায় ২০০ ফুট নীচে ডুলির ভিতরেই আটকে পড়েন ১২ জন শ্রমিক। খবর পাওয়ার পরই তাঁদের নিরাপদে উদ্ধারের জন্য তৎপরতা শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে উদ্ধারকাজ। অবশেষে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর তাঁদের বের করে আনা সম্ভব হয়।

তবে এই ঘটনা ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে খনি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে। সহকর্মীদের অভিযোগ, কুমারডিহি কোলিয়ারিতে ডুলি নিয়ে মাঝেমধ্যেই সমস্যা দেখা দেয়। কখনও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ডুলি আটকে যায়, আবার কখনও ডুলির দড়ি ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ। বারবার একই ধরনের বিপত্তি সত্ত্বেও কেন স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন শ্রমিকদের একাংশ।

খনির ভিতরে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় শ্রমিকদের। সেখানে যন্ত্রপাতির সামান্য ত্রুটিও বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই ডুলির নিয়মিত পরীক্ষা, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার বিষয়টি কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

এই ঘটনায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খনি আধিকারিকের দাবি, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণেই ডুলি আটকে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তবে ঠিক কী কারণে এই ত্রুটি দেখা দিল, শেষ কবে ডুলিটির রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। ফলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।


Share