Cyclone

শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’! বুধবার ইয়ানামের কাছে স্থলভাগে ল্যান্ডফলের আশঙ্কা, উপকূলে জারি সতর্কতা

বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশের ইয়ানামের কাছে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা। ২৮ ও ২৯ অক্টোবর দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে সতর্ক প্রশাসন।

শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৮

বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ইতিমধ্যেই অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ঘণ্টায় প্রায় ২৩ কিলোমিটার গতিতে উপকূলের দিকে সেটি এগোচ্ছে। ঝড়ের ঘূর্ণায়মান গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার। সমুদ্রের উপর আরও শক্তি সঞ্চয় করে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছোতে পারে বলে পূর্বাভাস। আগামী বুধবার, ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশের ইয়ানামের কাছে স্থলভাগে ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়তে পারে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে অন্ধ্রপ্রদেশে জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা।

আবহাওয়া সংক্রান্ত পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত ছয় ঘণ্টায় পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বর্তমানে সেটি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। গোপালপুর থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে, বিশাখাপত্তনম থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে এবং কাকিনাড়া থেকে ৪২০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে রয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগোনোর পর ঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে বাঁক নিতে পারে। বুধবার দুপুরের মধ্যে বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে ইয়ানামের কাছে স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি দক্ষিণ ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকাতেও সতর্কতা জারি রয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের আছড়ে পড়ার আশঙ্কা নেই বলেই পূর্বাভাস। তা সত্ত্বেও ঝড়ের প্রভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে রাজ্যে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছোতে পারে। পাশাপাশি, ২৮ ও ২৯ অক্টোবর দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব না পড়লেও উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ‘অর্ণব’-এর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে মঙ্গলবার থেকেই আবহাওয়ার পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে। তিন জেলাতেই খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। পূর্ব মেদিনীপুরে ৪৩টি ত্রাণশিবিরের পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকার ৫০০টি স্কুলবাড়িও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে, সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কায় দিঘা, মন্দারমণি ও শঙ্করপুরের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে প্রশাসনের তরফে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ২৭ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সমুদ্রে নামার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবারের মধ্যে মৎস্যজীবীদের সমুদ্র থেকে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সৈকতে মাইকে প্রচার চালিয়ে পর্যটকদের সতর্ক করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর, দাঁতন, কেশিয়াড়ি, সবং, পিংলা, ডেবরা ও খড়্গপুর-সহ একাধিক এলাকায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় সরাসরি বঙ্গে আছড়ে না পড়লেও ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির আশঙ্কায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।


Share