Suicide

বারাসতে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে হেনস্থার অভিযোগ, অপমানের ভয়ে আত্মঘাতী তরুণী! কাঠগড়ায় মহিলা পুলিশকর্মী ও তাঁর স্বামী

পরিবারের দাবি, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি পুলিশে কর্মরত। সেই কারণেই অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে পুলিশ গড়িমসি করছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারাসত
  • শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১১:২৭

উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে এক তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হন ২২ বছরের ওই তরুণী। ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিয়ো ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও তাঁকে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের। এই ঘটনার জেরেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় এক মহিলা পুলিশকর্মী, তাঁর স্বামী-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই মৃতার পরিবার বারাসত থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তরুণী হাটখোলার বাসিন্দা। তাঁর সঙ্গে সঙ্গে এক যুবকের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুই পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের সম্পর্কের কথা জানতেন। তাঁদের বিয়ের কথাবার্তাও চলছিল। ওই যুবক বারাসতে একটি ভাড়াবাড়িতে থাকেন। শনিবার দুপুরে তরুণী তাঁর সঙ্গে দেখা করতেই সেখানে গিয়েছিলেন।

অভিযোগ, সেই সময় এলাকার কয়েক জন তাঁদের ভিডিয়ো করেন। এরপর বাইরে থেকে ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, যুগলের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিয়ো তাঁদের কাছে রয়েছে এবং তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

এই ঘটনার পর তরুণী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বাড়ি ফিরে তিনি অত্যন্ত আতঙ্কিত ও বিধ্বস্ত ছিলেন বলে দাবি পরিবারের। রবিবার দুপুরে নিজের ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের এক সদস্যের অভিযোগ, ব্যক্তিগত ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং পরিবারের সম্মানহানির ভয়েই তিনি চরম সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বারাসত থানায় যান মৃতার পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ জানাতে গিয়েও থানার সামনে উত্তেজনা ছড়ায় বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের দাবি, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি পুলিশে কর্মরত। সেই কারণেই অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে পুলিশ গড়িমসি করছে। মৃতার পরিবারের তরফে অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিও জানানো হয়।

অন্যদিকে, বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দুর্বার বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বারাসতের এক মহিলা পুলিশকর্মী ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

তবে ঠিক কী ঘটেছিল এবং তরুণীর মৃত্যুর সঙ্গে এই অভিযোগগুলির যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।


Share