Cyclone

শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’! বাতিল একাধিক ট্রেন, বন্ধ ওড়িশার স্কুল, কোথায় থাকছে সতর্কতা?

ইতিমধ্যে সমুদ্রে থাকা মৎস্যজীবীদের নিরাপদ স্থানে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গভীর নিম্নচাপ ও পূর্ণিমার কটালের জেরে নদী ও সমুদ্রে জলস্তর বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:৫৬

ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে ধেয়ে আসছে ‘অর্ণব’। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে সেটি তীব্র থেকে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। বুধবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছোতে পারে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারে।

ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় তৎপর হয়েছে প্রশাসন। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় ঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কিছু ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে মঙ্গলবার ও বুধবার ৫৩টি এবং ওড়িশায় মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আটটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এর পাশাপাশি হাওড়া-জগদলপুর এক্সপ্রেস ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর এবং জগদলপুর-হাওড়া এক্সপ্রেস ২৮ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল থাকবে। ওড়িশার ছয়টি জেলায় মঙ্গলবার ও বুধবার স্কুল, কলেজ এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জেও দু’দিন স্কুল বন্ধ থাকবে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গেও। মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার উত্তরবঙ্গের চার জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে সম্ভাব্য দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা, ফ্রেজারগঞ্জ, গঙ্গাসাগর ও গোবর্ধনপুর-সহ উপকূলীয় এলাকায় মাইকে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে সমুদ্রে থাকা মৎস্যজীবীদের নিরাপদ স্থানে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গভীর নিম্নচাপ ও পূর্ণিমার কটালের জেরে নদী ও সমুদ্রে জলস্তর বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। অন্যদিকে, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ ও বিহারেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে প্রশাসনকে।


Share